নিজের বিয়ের খবর শুনে থানায় ৯ বছরের ছাত্রী, অতঃপর..

নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করা আমতলীর মনিকা বিদ্যালয়ে ফিরেছেন। তাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত তার সহপাঠি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

রবিবার মনিকা বিদ্যালয়ে ক্লাস করেছেন।

তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই। সবার ভাষ্য দ্বিতীয় শ্রেণির একটি মেয়ে এতবড় সাহসী পদক্ষেপ কিভাবে নিতে পারে? সাহসী কন্যা মনিকা সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে জীবনে বড় কিছু হতে পারবে বলে তাদের  ধারণা।

জানাগেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার রিক্সা চালক জুয়েল প্যাদা আমতলী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বটতলা ব্রীজ সংলগ্ন খালের পাড়ের বাসুগী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। স্ত্রী শাহানাজ বেগম আমতলী পৌরসভায় পরিছন্নকর্মী হিসেবে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রীর আয়ে কোন মতে চলে তাদের জীবন সংসার।

তাদের একমাত্র কন্যা মনিকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অভাবেব সংসারে ৯ বছরের কন্যা মনিকা হয়ে পড়ে তাদের বোঝা। সম্প্রতি মনিকার মা পৌরসভার আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী শামীম (১৫) এর সাথে মেয়ের বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। এ বিয়েতে মনিকার বাবা রাজী ছিল না বলে জানায় মনিকা। নিজের বিয়ের এ আয়োজন দেখে মনিকা চমকে যান এবং তার এ বিয়ে বন্ধের জন্য একই এলাকার খেলার সাথী ফারজানা ও কনিকাকে নিয়ে আমতলী থানায় চলে আসে।

থানায় এসআই নাসরিনের সাথে দেখা হলে মনিকা তার বিয়ের আয়োজনের সব কথা খুলে বলেন। তাৎক্ষণিক এসআই নাসরিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে মনিকার বাড়িতে চলে যায়। তিনি বিষয়টি আমতলী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদারকে জানান। কমলেশ মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিকার মাকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। পরে বাল্য বিয়ের কুফল বুঝতে পেরে মনিকার মা তার মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন। 
নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকানোর ঝামেলার কারণে শনিবার বিদ্যালয়ে আসেনি মনিকা। রবিবার বিদ্যালয়ে আসায় তার সহপাঠীরা তাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত হয়।

রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মনিকা তার সহপাঠিদের নিয়ে কক্ষে বসে আছে। শিক্ষক তাদের পাঠদান করাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে মনিকা বলেন, আমার মনের জোড়েই আমি থানায় গিয়েছি। আমি বুঝতে পারছি আমার মা একটি বড় অন্যায় করছে। থানায় গেলেই সব সমাধান হবে। তাই হয়েছে।

মনিকা আরো বলেন, আমি লেখাপড়া করে মানুষ হতে চাই। আমি নিজের বিয়ে ঠেকিয়েছি। কোথাও বাল্য বিয়ের খবর পেলে আমি ওই বিয়েও বন্ধ করবো।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজুল ইসলাম রাসেল বলেন, মনিকা যে কাজটি করেছে তা সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। ওইটুকু মেয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এতোবড় কাজ করেছে এটা ভাবাই যায় না। এ রকম মনিকা যুগে যুগে জন্ম নেয় না। ওর এতোবড় কাজে বিদ্যালয়সহ গোটা আমতলীবাসী ধন্য। 

আমতলী উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা অকল্পনীয়। মনিকার লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী আফিসার মনিরা পারভীন বলেন, মনিকার শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম চলমান রাখবো।

মন্তব্য লিখুন :