কুড়িগ্রামে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা তৈরির হিড়িক!

কুড়িগ্রামে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার নামে চলছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। একই স্কুলের পৃথক পৃথক জায়গায় বিদ্যালয় ঘর নির্মাণ হওয়ায় বিভ্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। পাল্টাপাল্টি বিদ্যালয় ঘর নির্মাণ করে এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চলছে জোর তদবির। এই দৃশ্য এখন জেলার সর্বত্র।

সুযোগ-সন্ধানী মহলের এমন অপতৎপরতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুগের পর যুগ পাঠদান করে আসা শিক্ষকরা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দরিদ্রপীড়িত এবং শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর  উপজেলার খামার হলোখানা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাটি ১৯৭৫ সালে স্থাপিত হয়ে ১৯৮৪ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে মাদ্রাসাটি ধরলা নদীর কড়ালগ্রাসে বিলীন হয়ে স্থানান্তরিত হয়ে নদীর দক্ষিণ পারে স্থাপিত হয়। স্থানান্তরিত হওয়ার পর মাদ্রাসাটি বর্তমান স্থানে জমি রেজিষ্ট্রি হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি ২০০৪ হতে বর্তমান পর্যন্ত চালু রয়েছে।

দরিদ্রপীড়িত এলাকার জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ২০১৫ হতে বর্তমান পর্যন্ত চালু রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমান ১৬৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিগত বছর ১৬ জন শিক্ষার্থী ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। আগামী ২০১৯ সালে সমাপনী পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু একই এলাকায় ওই মাদ্রাসাটির আইডি-১০৭০২০৫০১, মাদ্রাসা কোড-৫১৪৩৭, এনটিআরসিএ নিবন্ধন নং-৮০১১৩৫ নম্বর একটি কুচক্রি মহল হুবহু নকল করে সাইন বোর্ড টানিয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম আযম জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ন্যায় জেলার নাগেশ্বরী এবং উলিপুর উপজেলায় একটি কুচক্রি মহল সাইনবোর্ড সর্বস্ব অসংখ্য ঘর নির্মাণ করে এমপিওভুক্তির তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অপতৎপরতা মোটেও কাম্য নয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট সকালে সরেজমিনে গিয়ে  দেখা যায়, ধরলা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে কে বা কাহারা। বিদ্যালয়ের সামনে লেখা আছে খামার হলোখানা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। স্কুল ঘর খোলা থাকলেও নেই শিক্ষার্থীরা। দাঁড়িয়ে আছে জাতীয় পতাকা। চোখে পড়ে স্কুল মাঠে বাঁধা গরু এবং ময়লার ভাগাড়। স্কুল ঘরটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে-এমন প্রশ্ন করলে এলাকার মোহাম্মদ আলী, শামছুল ইসলাম ও নুরনবী সরকার জানায়, রাতের আধারে ৩০/৪০ দিন আগে ঘরটি কে বা কাহারা উঠিয়েছে তা আমরা দেখি নাই।

এ ব্যাপারে খামার হলোখানা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার পদক্ষেপ নেয়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে সুযোগ-সন্ধানীদের অপতৎপরতা। তদন্ত করলে মুখোশ উন্মোচিত হবে এসব সুযোগ-সন্ধানীদের। এমতাবস্থায় শিক্ষা অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম জানান, সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়ায় এখন যত্রতত্র স্কুল ঘর নির্মাণ হচ্ছে। কিছুদিন আগে জেলায় মোট ৮৬টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা থাকলেও এখন ২৫৬টিতে পরিণত হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে তদন্ত সাপেক্ষে বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে পূর্বের প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :