গড়াই নদী গিলে খাচ্ছে শৈলকুপার গ্রামগুলো

ঝিনাইদহের শৈলকুপার তিনটি ইউনিয়নে খরস্রোতা গড়াই নদীর ভাঙ্গনে ৫টি গ্রামের কয়েকশত বসত বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় নতুন করে নদী ভাঙন দেখা দেওয়ার আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকার বাসিন্দারা।

উপজেলার সারুটিয়া, হাকিমপুর ও ধলোহরাচন্দ্র ইউনিয়নের নদীর পাড় ভিত্তিক গ্রামগুলোর শত শত বিঘার ফসলি জমি ও বাড়ির একাংশ হারিয়ে গেছে। নদীর কড়াল গ্রাসে হুমকির মুখে পড়েছে মসজিদ ও বাজার সহ দু-শতাধিক বসতি।

শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া, হাকিমপুর ও ধলোহরাচন্দ্র  ইউনিয়নের গড়াই নদীর পাড় ভিত্তিক বড়ুরিয়া, কৃঞ্চনগর, মাঝদিয়া, মাদলা ও লাঙ্গলবাধ বাজার গ্রামগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ১৪০০ বিঘা ফসলি জমি ও প্রায় ৩০টি বাড়ির একাংশ নদীর গ্রাসে হারিয়ে গেছে।

সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই নদীর এ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভারি বর্ষনে ভাঙন কবলিত এলাকা আগ্রাসী রুপ ধারণ করছে।

সারুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, কুষ্টিয়া থেকে ভাটিতে আসা গড়াই নদী ঝিনাইদহের শৈলকুপার লাঙ্গলবাধ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে প্রবাহিত। ১৯৯০ সালের পর থেকে বছরের পর বছর এ নদীর ভাঙনের কড়াল গ্রাসে তিনটি ইউনিয়ন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার বসত ভিটা ও ঘর বাড়ি ছেড়ে পথে বসেছে।

দ্রুত নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে গ্রামের শত শত পরিবার পথে বসবে। সে কারণে প্রতিরক্ষা বাঁধের দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইদহ-১ সংসদ সদস্য আব্দুল হাই অনতিবিলম্বে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার জাহান সুজন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটি টিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলেই কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন :