চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বে স্থবির গোপীনাথপুর ইউপির সেবা

গোপালগঞ্জে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্থবির হয়ে পড়েছে সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা কার্যক্রম।

নানা অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এনে ৯ জন মেম্বার চেয়রম্যানের বিরুদ্ধে ও চেয়ারম্যান ৯ জন মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ এখন মুখোমুখি অবস্থানে। প্রত্যেকে তাদের নিজেদের বিরুদ্ধের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য দৌড়ঝাপ করায় ইউনিয়নের যাবতীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। ওই ইউনিয়নের চলমান অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসুক এমনটাই চাইছে  ইউনিয়নবাসী।

জানাগেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৯ সদস্যদের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রসূতি ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নেরই চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু। এর আগে গত ২৯ মে বয়স্ক ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড, নলকূপ ও ঘর বরাদ্দসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ জন সদস্য।

এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সত্যতা জানতে ওই ইউনিয়নে গিয়ে কথা হয়, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম মিয়া, কাজী রেজাউল করিম, শরীফ বাবর আলী, শরীফ হামিদুল হকের সাথে।

তারা বলেন, ৯ সদস্য মিলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন বলেই চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে এমন দাবি তাদের। সদস্যদের দাখিলকৃত আবেদনের তদন্ত সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন, সেখানে সত্যতাও পাওয়া গেছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ইউপি সদস্যরা।

ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান অমিনুল হক লাচ্চু বলেন, আমার ইউনিয়নের ৯ জন সদস্য ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রসূতি ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সরকারি অনুদান তাদের পরিবারের মধ্যে বিতরণ করায় আমি তাদের বাধা দিয়েছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু আমি তাদের এসব অন্যায় সংশোধন করতে না পেরে ৯ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান খান বলেন, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যেকোন পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :