আমতলীতে বিয়ের নামে প্রতারণা, স্ত্রীর মর্যাদা চাওয়ায় মারধর

বরগুনার আমতলীতে বিয়ের নামে প্রতারণা করে এক নারীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রুবেল প্যাদা নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।

স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ২০০৪ সালে নাসিমা বেগমের সাথে এক ইতালী প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয়। নাসিমার ঘরে দুইটি সন্তান রয়েছে। তার স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকেই চাচাতো ভাই রুবেল প্যাদা বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছে। এক পর্যায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছরে একাধিক বার ধর্ষণ করে রুবেল প্যাদা এমন অভিযোগ গৃহবধূ নাসিমার।

এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে নাসিমাকে তালাক দেয় তার স্বামী। নিরুপায় হয়ে সে ঢাকায় চলে আসে। ওইখানে গিয়ে রুবেল পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ বছর ২৩ জুন এফিডেভিট মাধ্যমে রুবেল নাসিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য নির্যাতন শুরু হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে নাসিমা রুবেলকে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গত বুধবার রুবেল স্ত্রী নাসিমার ঘরে থাকা তিন ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে আসে এবং মুঠোফোনে বিয়ের কথা অস্বীকার করেন।

সোমবার বিকালে নাসিমা স্ত্রীর মর্যাদা দাবিতে রুবেলের বাড়ি আসেন। আসা মাত্রই রুবেল প্যাদা তার বাবা মন্নান প্যাদা, শামিম হাওলাদার ও শাহিন হাওলাদারসহ ৫ জনে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করে। এতে নাসিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা নাসিমাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত নাসিমা আক্তার বলেন, রুবেল প্যাদা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ওর জন্য আমার পূর্বেও স্বামী দুটি বাচ্চা রেখে তালাক দিয়েছে। এখন বিয়ের নামে প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষা টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে এসেছে। এখন বিয়ে অস্বীকার করছে।

তিনি আরো বলেন, মর্যাদা চাইতে রুবেলের বাড়িতে আসলে আমাকে রুবেল, তার বাবা মান্নান প্যাদা, মা মমতাজ বেগম, মামাতো ভাই শামীম হাওলাদার ও মামা শ্বশুর শাহীন হাওলাদারসহ ৪/৫ জনে বেধরক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজরা বলেন, নাসিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

এ বিষয়ে রুবেল প্যাদার মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :