রাজশাহীর ৫ উপজেলায় নেই এসিল্যান্ড

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমির নামজারি করতে প্রায় ৪ মাস আগে আবেদন করেন খালেদা খাতুন নামের এক নারী। নামজারির জন্য সকল প্রক্রিয়া শেষ। এখন রয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনারের অনুমোদনের শেষ ধাপটি। কিন্তু এই কাজটি হচ্ছে না এখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড না থাকায়। প্রায় ৮ মাস ধরে এখানে এসিল্যান্ড নাই। এই অবস্থায় প্রতিদিন জমির নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, পর্চা উত্তোলনসহ নানাকাজে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে সেবাগ্রহীতারা এসে ঘুরে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে জনহয়রানি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু পুঠিয়াতেই নয়, এসিল্যান্ড পদটি শূন্য থাকায় জমির নানাকাজে এসে প্রতিদিন ঘুরে যেতে হচ্ছে জেলার আরো ৪টি উপজেলার শত শত মানুষকে। এই উপজেলাগুলো হলো, মোহনপুর, তানোর, বাগমারা, ও দুর্গাপুর। সবমিলিয়ে ৫টি উপজেলায় শূন্য এসিল্যান্ড পদটি।

পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড পদটি শূন্য থাকলেও সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন ইউএনও ওলিউজ্জামান। কিন্তু তিনিও প্রায় ১০ দিন ধরে ছুটিতে ভারতে রয়েছেন। ফলে এসিল্যান্ডের অবর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও কিছুটা কাজ করলেও তিনি ছুটিতে থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন পুঠিয়ার বাসিন্দারা। জমির নানাকাজে গিয়ে প্রতিদিন ঘুরে আসছেন পুঠিয়ার বাসি।

জানতে চাইলে জায়দুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, একটি নামজারি (খারিজ) আবেদন করেছি প্রায় ৫ মাস হলো। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় হচ্ছে না। ইউএনও দায়িত্বে থাকলেও শুনেছি তিনিও ঠিকমতো জমির কাজগুলো করেন না। অন্য কাজ করতেই নাকি সময় শেষ হয়ে যায় তাঁর। ফলে দিনের পর দিন হয়রানি হচ্ছি। কোনো উপায় পাচ্ছি না।

এদিকে জেলার দুর্গাপুরে এস্যিলান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন বাঘার এসিল্যান্ড আল্পনা ইয়াসমিন। দুর্গাপুরের ইউএনওকে রেখে বাঘার এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি একদিনও দুর্গাপুরে গিয়ে অফিস করেননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবার দুর্গাপুরের ইউএনও বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন চারঘাটের ইউএনও নাজমুল হক।

এই উপজেলা ভূমি অফিসে গতকাল জমির পর্চা তুলতে যান জুগিশো গ্রামের আকবর আলী। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় তাকে ফিরে যেতে হয়। কবে নাগাদ এসিল্যান্ড অফিস করবেন বা যোগদান করবেন সেটিও ভূমি অফিসের কেউ তাকে বলতে পারেননি। এ নিয়ে অনেকটা হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরে যান আকবর আলী।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, গত প্রায় তিন মাস ধরে ঘুরছি এই পর্চার জন্য। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। দিনের পর দিন হয়রানি হচ্ছি একই কাগজের জন্য।

জানা গেছে, এ উপজেলার সর্বশেষ এসিল্যান্ড ছিলেন সমরেশ মজুমদার। তিনি গত জানুয়ারি মাসে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে এ উপজেলাটি এসিল্যান্ড শূন্য হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, আমি অল্প কয়েকদিনের জন্য দায়িত্বে আছি। কাজেই এসিল্যান্ড না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে কিনা বলতে পারব না।

জেলার মোহনপুরেও এসিল্যান্ড পদটি শূন্য প্রায় বছর খানেক ধরে। এখানে পবা উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনিও সময় দিতে পারেন না মোহনপুরে। ফলে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।   

জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাস বলেন, জেলার বাগমারার এসিল্যান্ড পদটি শূন্য প্রায় চার মাস ধরে। এর আগে মাস দুয়েকের জন্য একজন এসিল্যান্ড ছিলেন। এর আগেও দীর্ঘদিন এই পদটি শূন্য ছিল। এতে করে এখানকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যাপক হারে।

উপজেলার মচমইল এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ বরে বলেন, মানুষ জমিও বিক্রি করতে পারছে না জমির খারিজ না হওয়ায় এ কারণে অনেকেই মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারছে না অর্থাভাবে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলার তানোরেও। এখানেও প্রায় চার মাস ধরে এসিল্যান্ড পদটি শূন্য হয়ে আছে। দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও নাসরিন বানু। তবে তাঁর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন গোদাগাড়ীর ইউএনও।

জানতে চাইলে তানোরের ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, 'আমাদের যে দায়িত্ব সেটি পালন করতে গিয়েই সময় শেষ হয়ে যায়। এর ওপর বাড়তি এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধে আমি কাজ করে যাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন :