ডোমারে দাদনের জন্য মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নীলফামারী জেলার ডোমারে দাদনের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ময়নুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মৌজা পাঙ্গার স্কুলপাড়ার ৩নং ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ময়নুলের স্ত্রী ফিরোজা বেগম।

অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের স্কুল পাড়ার মোঃ ময়নুল ইসলাম তার প্রতিবেশী মৃতঃ তছলিম উদ্দিনের ছেলে মোজা(৩৫) এর নিকট গত দুই বছর আগে ৬০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নিয়ে সময়মত পরিশোধ করে দেয়। টাকা পরিশোধের পর হতে মোজা ঐ টাকার সুদ বাবদ আরও ৬০ হাজার টাকা দাবি করে ময়নুলের কাছে। ময়নুল সুদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ময়নুলের পরিবারের সাথে বিরোধ করতে থাকে। 

এরেই সুযোগে ময়নুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে ইট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি হইতে বের হলে মোজা মোবাইল ফোনে ময়নুলকে বাড়িতে ডেকে নেয়। ময়নুল তাদের বাড়িতে গেলে মোজা ও তার স্ত্রী বানু বেগম (২৮) সুদের ৬০ হাজার টাকা কবে দিবে জানতে চাইলে ময়নুল বলে আমি হাওলাদ নিয়েছে টাকা সেই টাকা শোধ করে দিয়েছি আমি কোন সুদের টাকা দিতে পারবো না জানালে, মোজা ও তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ময়নুলকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারডাং করতে থাকে এবং তার কাছে থাকা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা জোর পুর্বক বের করে নেয়। 

এ সময় ময়নুল বেসামাল হয়ে পরলে মোজা ও তার স্ত্রী মধ্যযুগীয় কায়দায় ময়নুলের দুইহাত বেধে গাছের সাথে ঝুলিয়ে নির্যাতন করতে থাকে। এ সময় ময়নুলের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বর্তমানে ময়নুলের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছে বলে জানিয়েছেন ফিরোজা বেগম। এ ব্যাপারে মোজার সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য জানা যায়নি।

মন্তব্য লিখুন :