বান্ধবীকে অন্তঃসত্ত্বা করা সেই ইউনএওর নতুন কুকীর্তি সামনে এলো

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নব-যোগদানকারী ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের সাথে শারীরিক সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে তার কথিত প্রেমিকা। এ ঘটনায় তাহিরপুর উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ ঘটনায় ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলির বিষয়টি জানানো হয়।

বর্তমানে তাকে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিভাগের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেখানে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আগামী রোববার তাকে ওই পদে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকাবস্থায় স্থানীয় একটি ব্যাংকের কদমতলী শাখায় প্রেমিকার নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেখানে কয়েক মাস ধরে মোটা অংকের টাকা লেনদেনও করেন আসিফ ইমতিয়াজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ বাধলে ব্যাংকে গোপন লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রেমিকার ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে স্বাক্ষর জাল করে অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করে।

সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হারুন অর রশীদকে আহ্বায়ক করা হয়। ১৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন জমা দেন হারুন অর রশীদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় জনৈক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয় হয় আসিফ ইমতিয়াজের। তখন চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখায় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। প্রাথমিক পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসিফ। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেলে বসবাস শুরু করেন। ততদিনে গোপনে বিয়েবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে না চাইলে বিপত্তি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী প্রতিকার চেয়ে ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই নারীর লিখিত অভিযোগে বলেন, বিগত বছরের এপ্রিল মাসে এক বান্ধবীর মাধ্যমে আসিফ ইমতিয়াজের সাথে পরিচয় হয়। পরে জানতে পারি তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকদিন ফোনে কথা হয়। এরপর এপ্রিল মাসে তার সাথে ঢাকায় এসে সাক্ষাৎ করি। প্রথম সাক্ষাতেই আমাদের বিয়ে নিয়ে কথা হয়। এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহ সে মিরপুর-৬ নম্বরে একটি বাসা ভাড়া নেয়। বাসা নেয়ার খবর দেয়ার পর আমি ঢাকায় আসি। ওই বাসায় তার বোন-ভগ্নিপতির সাথে কথা হয়। তাদের সামনেই মে মাসের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আসিফ।

ভিকটিম জানায়, ওই সময় আসিফ ডিভোর্স সম্পর্কে জানায় তার আগে শ্বশুর আইনজীবী হওয়ায় ডিভোর্সের প্রক্রিয়াটায় একটু সময় বেশি লাগছে। যেদিন ডিভোর্স পেপার হাতে পাবে পরের দিনই বিয়ে করবেন। এমন আশ্বাস ও তার বোন ও ভগ্নিপতিকে সাক্ষী রাখায় আমি তার সাথে থাকতে রাজি হই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে একসাথে থাকতাম।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমি গর্ভবতী হই। এটা তাকে জানানোর পরই আমার সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। ওই শিশু নষ্ট করার জন্য প্রচন্ড চাপ দেয়। এক সপ্তাহ পরই সে আমাকে ফেসবুকসহ সব যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লক করে দেয়। তার সাথে আমি কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। নানাভাবে তাকে মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও পারিনি। পরে ডিসির সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনা বলা পর তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন এবং একজন এডিসিকে দায়িত্ব দেন।

ভিকটিম বলেন, এডিসি তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে। আমি সব ডকুমেন্ট দেয়ার পর এডিসি তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলির করার সুপারিশ করেন। তার সুপারিশ মতে চলতি বছরের এগ্রিল মাসে তাকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে বদলি করা হয়। এর পর থেকে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আর জানুয়ারি মাসে তার সাথে আমার শেষ সাক্ষাৎ হয়। এরপর সে দেখা করতে চাইলেও আমি করিনি। এখন পর্যন্ত নানাভাবে তিনি (ইউএনও) আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন :