প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৪

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রাণীরপাড়া গ্রামে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রেহেনা খাতুন নামে এক গৃহবধূ তার স্বামী রফিকুল ইসলাম (৪৭) কে হত্যা করিয়েছেন নিজ সন্তানকে দিয়ে। পরে পুলিশ রেহেনা খাতুনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পর নিখোঁজ রফিকুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে গ্রামের পার্শ্বে জমিতে পুঁতে রাখা রফিকুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রেহেনা খাতুন (৩৭) ও তার প্রেমিক একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলাম (৪৭), ছেলে জসিম (১৮) ও রেহেনার বোনের ছেলে তেকানিচুকাইনগর গ্রামের করিম আকন্দের ছেলে শাকিল (২১)।

শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, সোনাতলা পাকুল্লা গ্রামের আজাদ আলীর মেয়ে রেহেনা খাতুনের সঙ্গে অনেক আগে রাণীরপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মরিচ চাষি রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলামের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেহেনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দু’জন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। সেক্ষেত্রে পথের কাঁটা রফিকুল ইসলামকে তারা পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। যেহেতু প্রেমিক মহিদুল ইসলামের একার পক্ষে রফিকুল ইসলামকে হত্যা করা সম্ভব নয় সেজন্য লোকবল বাড়ানোর জন্য রেহেনা খাতুন তার তৃতীয় সন্তান জসিম এবং রেহেনার বোনের ছেলে শাকিলকেও সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

জসিম যেহেতু একটু সরল প্রকৃতির এবং ঠিকমত পড়ালেখা না করার কারণে ঘন ঘন বকুনি খেয়ে বাবার ওপর একটু বিরক্ত তাই নিজের জন্মদাতাকে শায়েস্তা করার কাজে তাকে ব্যবহারের সুযোগটি নেয় রেহেনা খাতুন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৪ জুন রাতে রফিকুল যখন খেতে বসে তখন বেগুন ভর্তার মধ্যে মহিদুলের এনে দেওয়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন রেহেনা খাতুন। এরপর তিনি গভীর ঘুমে আছন্ন হলে মহিদুল ও জসিম মিলে রফিকুলের বুকের ওপর উঠে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। 

পরবর্তীতে শাকিলকে ডেকে এনে তারা তিনজন মিলে রফিকুলের লাশটি মরিচের বস্তায় ভরে মহিদুলের বর্গা নেওয়া জমিতে পুঁতে রেখে চলে আসে। 

রফিকুল ইসলাম খুন হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর ২০১৯ সালের ১ জুলাই তার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

জিডিতে তিনি তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, গত ১৪ জুন থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু পুলিশ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 

কয়েকদিন আগে মহিদুলের সঙ্গে রেহেনা খাতুনের পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। শুক্রবার সকালে মহিদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক বছর আগে রফিকুল ইসলামকে খুন করার কথা স্বীকার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রেহেনা তার ছেলে জসিম ও রেহেনার বোনের ছেলে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মায়ের প্ররোচনায় বাবাকে হত্যা করায় ছেলে জসিম কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়েছে। জসিমের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নিজ হাতে বাবাকে হত্যা করার পর সে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছে। যে কারণে তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। 

একটি জিডির সূত্র ধরে পুলিশ দেরিতে হলেও রেহেনা খাতুনের ওই নৃশংসতার কথা জানতে পেরে শুক্রবার দুপুর ১১টায় তাদের গ্রামের পার্শ্বে জমিতে পুঁতে রাখা তার স্বামী রফিকুল ইসলামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

জিডি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। বড় ভাই শফিকুল ইসলামকে বাদী করে মামলাটি দায়ের করা হবে।