দুর্নীতির অভিযোগ: সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দিলেন আমতলী কলেজের অধ্যক্ষ

বরগুনার আমতলী সরকারি কলেজের ডিগ্র্রি তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণে দ্বিগুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় ফরম পূরণের শেষ দিনেও অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারেননি।

জানাগেছে, আমতলী সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে এ বছর সাড়ে তিন’শ  শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ২৩ জানুয়ারি ফরম পূরণের জন্য তারিখ ঘোষণা করে। গত এক মাস যাবৎ ফরম পূরণের কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার এ ফরম পূরণের শেষ দিন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফরম পূরণ বাবদ ১ হাজার ৪’শ টাকা ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৪’শ ৫০ টাকাসহ মোট  এক হাজার ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু জাতীয় আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান বিভিন্ন খাত দেখিয়ে দ্বিগুণ ফি অর্থাৎ ৪ হাজার ৪২০ টাকা আদায় করছেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অতিরিক্ত ফি না দিতে পারায় অনেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা এসে অধ্যক্ষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কলেজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ফরম পূরণের শেষ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এখনো অন্তত ১০০ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন,  অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান ফরম পূরণে ৪ হাজার ৪২০ টাকা ধার্য করেছেন। ওই একই বর্ষের ফরম পূরণে অন্য সকল বেসরকারি কলেজে দুই হাজার দুই’শ টাকা ধার্য করেছে। করোনাকালীন সময়ে ওই পরিমান টাকা দেয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

তারা আরো বলেন, টাকা কমানোর জন্য আমরা ধর্ণা দিয়েও পাচ্ছি না অধ্যক্ষকে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই মুঠোফোনের লাইন কেটে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।