দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে লজ্জার হার

সিলেট টেস্টে দায়িত্বহীন ব্যাটিং প্রদর্শনীতে জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জাজনকভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অলআউটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ১৬৯ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। আর এতেই ১৫১ রানের এক লজ্জার হার বরণ করতে হয় মুশফিক-মাহামুদুল্লাহদের।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) ২৮ রান নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে পেরেছে মাত্র ৪৭ ওভার।

তবে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম উইকেটে লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস যোগ করেন ৫৬ রান। এরপরই বাঝে বিপত্তি। সিকান্দার রাজার বল ছয় মারতে গিয়ে মিস করে ফেলেন লিটন। এলবিডব্লিউর আবেদনে প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউতে ব্রেক থ্রু পায় জিম্বাবুয়ে।

এরপর থেকেই শুরু টাইগার ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার খেলা। প্রথম ইনিংসে ১৩ রান করা মুমিনুল হক আজ করেন ৯ রান। পরে দায়িত্ব নিতে মাঠে আসেন স্বয়ং অধিনায়ক। তিনিও ব্যর্থ। রাজার বলে আরভিনকে ক্যাচ প্রাটিস করিয়ে ফেরেন ১৬ রান করে।

এর আগে দলীয় ৮৩ রানের মাথায় ৪৩ রান করে ওপেনার ইমরুল কায়েস আউট হয়ে যান। এই ব্যাটসম্যান বলের লাইনে না গিয়েই শট খেলতে গিয়ে হন বোল্ড।

এর কিছুক্ষণ পরই ব্রেন্ডন মাভুতার বলে সিকান্দার রাজার কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি করেছেন ১৩ রান। এতেই প্রথম টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়।

লাঞ্চের পর মাঠে নেমে একে একে মুশফিকুর রহিম, মেহেদি হাসান ও তাইজুল ইসলামকে দ্রুত হারায় টাইগাররা। তবে এতসব কিছুর পরও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াইটা চালিয়ে যান অভিষিক্ত আরিফুল। এই ব্যাটসম্যান শুধু দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে সতীর্থদের আসা যাওয়া দেখেন। তিনি সর্বশেষে আউট হওয়ার আগে করেন ৩৮ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ১৪৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ১৮১ রান করলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২১ রানের।

এই জিম্বাবুয়েকে গত কয়েক বছর ধরে বলে কয়েই হারিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তার উপর ঘরের মাঠে সিরিজ। ফেবারিট হিসেবেই খেলতে নেমেছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তবে ব্যাটসম্যানদের নিদারুণ ব্যর্থতায় পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট হারল বাংলাদেশ। সেটাও আবার ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে।

মন্তব্য লিখুন :