জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেমন হতে পারে একাদশ

আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে এই ম্যাচ।

দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে এই টেস্টকে ঘিরে বেশ আলোচনা হচ্ছে। কারণ এই ম্যাচে দেখা যাবে এক তরুণ বাংলাদেশকে। তরুণ বলছি এই কারণে এ ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলা হচ্ছে না সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে। এমনিতেই নেই পাঁচ সিনিয়রের মধ্যে মাশরাফি বিন মুর্তজাও। দলে রাখা হয়নি আরেক সিনিয়র রুবেল হোসেনকেও। সুতরাই মোটামুটি তরুণ দল নিয়ে কাল জিম্বাবুয়ে বধে নামতে হবে টাইগারদের।

তাছাড়া নতুন কোচ স্টিভ রোডসের ঘরের মাঠে এটিই প্রথম টেস্ট সিরিজ।

ধারণা করা হচ্ছে এই সিরিজে দুই তরুণের অভিষেক হতে পারে। অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ এমনই আভাস দিয়েছেন। আমার মনে হয় ওরা (মোহাম্মদ মিথুন ও নাজমুল অপু) যেভাবে খেলছে, টেস্ট স্কোয়াডে তাদের একটা সুযোগ প্রাপ্য। অপু-মিঠুন দুজনই সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ফর্মে আছে। ওই আত্মবিশ্বাসটা যদি টেস্ট ক্রিকেটে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে ভালো পারফর্ম করবে।

তবে দলে তরুণরা আসলেও তাদের প্রাধান্য দিয়েই একাদশ গড়া হবে, এই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না মাহমুদউল্লাহ। বরং প্রথম ম্যাচে সেরা একাদশটাই দেখতে চান তিনি। অধিনায়ক বলেন, প্রথম ম্যাচে আমরা সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়ে খেলব। প্রথম ম্যাচ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, আমাদের শুরুটা যখন ভালো হয়, আমরা অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারি। তো সেরা একাদশটিই খেলার সুযোগ পাবে। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলে সেটা দ্বিতীয় টেস্টে হতে পারে।

এই টেস্ট দিয়ে অভিষেক হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়ামেরও। বাংলাদেশের অষ্টম ভেন্যু এটি। তবে সমস্যা হচ্ছে এই টেস্টে সিলেটের মানুষ পরিচিত মুখদের দেখতে পাবে না।

এই নিয়ে চিন্তিত ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কও। তিনি বলেন, সাকিব একের মধ্যে দুই (ব্যাটিং-বোলিং), কখনো তিন (দুর্দান্ত ফিল্ডিং), কখনো চারও (অধিনায়কত্ব)। তামিম ইকবাল তো আশ্চর্য জাদুকাঠির ব্যাটসম্যান। এই দুজনের না-থাকাটা একটু সমস্যার। তবে তরুণদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা আছে অধিনায়কের। ভালো ফলাফলেরই আশা করছেন তিনি।

যেমন হতে পারে একাদশ:

ওপেনিংয়ে যে ইমরুল কায়েস থাকছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার সঙ্গী হিসেবে লিটন দাসকেই কাল দেখা যাবে। তিন নম্বরে খেলবেন টেস্টের বিশ্বস্ত সেনানী মুমিনুল হক। এরপর থাকবেন মি. ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ তো আছেনই। সমস্যাটা হচ্ছে মোহাম্মদ মিথুন ও মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে। তাদের মধ্যে কাকে নামানো হবে কাল।

মিথুন ইদানিং বেশ ফর্মে আছেন। তবে ঘরোয়া লীগে মোসাদ্দেকের পারফর্মও খারাপ নয়। তাছাড়া, টেস্টে অনেকদিন ধরেই ভালো খেলছেন তিনি। বাংলাদেশ যদি চার স্পেশাল বোলার নিয়ে খেলে তাহলে এই দু’জনের একজনই দলে জায়গা পাবেন। আর তিন বোলার থাকলে দু’জনকেই দেখা যেতে পারে দলে।

দলে অলরাউন্ডার মিরাজের জায়গা বেশ পাকা। তবে স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলাম ও অপুর মধ্যে একজনকেই খেলানো হবে। তাইজুল যেহেতু নিয়মিত পারফরমার তাই তাকেই দলে দেখা যেতে পারে। পেসার হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান থাকছেন সেটা নিশ্চিত। তার সাথে থাকছেন আবু জায়েদ রাহী। অতিরিক্ত পেসার খেলানো হলে তরুণ খালেদ আহমেদ সুযোগ পেতে পারেন।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল:

ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি মিরাজ, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান. আবু জায়েদ রাহী।

মন্তব্য লিখুন :