কার্ডিফের সেই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনতে চায় মাশরাফি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর রাতে ঠিকমতো ঘুমানোরও সময় পায়নি বাংলাদেশ দল। মঙ্গলবার সাত সকালেই টন্টন থেকে নটিংহাম যাত্রা করেন মাশরাফি-সাকিবরা। বিশ্রামের সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াই আজ।

কাল ট্রেন্টব্রিজে অনুশীলন সেরে নিলেন টাইগাররা। আজ রাতেও ক্রিকেটাররা ঘুমাতে চান না! ফিরিয়ে আনতে চান ২০০৫ সালের কার্ডিফের সেই সুখ স্মৃতি। সারা রাত জেগে উপভোগ করতে চান আরেকটি হিরণ্ময় জয়।

ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে। সেই জয়ের অন্যতম নায়ক মাশরাফি মুর্তজা এখন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে কাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির কণ্ঠে ফুটে উঠল ১৪ বছর আগের সেই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়, ‘স্মৃতিটি দারুণ।

সেদিন ও রাতের সবকিছুই আমার মনে আছে। আশা করি সেই দিনটিই ফিরে আসবে আগামীকাল (আজ)। তবে সেটির জন্য আমাদের নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’

ক্যারিবীয়দের দাপটের সঙ্গে হারানোর পর বাংলাদেশকে নিয়ে অন্য দেশের সাংবাদিকদেরও আগ্রহ বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরিকল্পনা কি সেটা জানার আগ্রহ সবার। বাংলাদেশ কিভাবে জিততে পারে সেটাও সহজভাবে বলে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তিনি বলেন, ‘ভালো খেললে জিতবে বাংলাদেশ।’

জেতার জন্য ভালো খেলতে হয় সেটা সবারই জানা। প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়া তখন কতটা ভালো খেলতে হবে? মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের সব বিভাগেই ভালো করতে হবে। একটা বিভাগে ভালো করে বাকি দুটিতে খারাপ করলে জেতা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়া যদি ৭০ ভাগ খেলে, আমার ধারণা আমাদের ১০০ ভাগ খেললে তখন সম্ভব হবে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১০ ভাগ ভালো খেলে ম্যাচ জেতা কঠিন। কমপক্ষে ব্যবধান থাকতে হবে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ।’

ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৮ ম্যাচে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। কিভাবে জিততে হয় সেটা ভালোই জানে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রক্তেই স্পোর্টস শব্দটা মিশে আছে।

মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের ওদের সঙ্গে কতটা ভালো খেলতে হবে সেটা সাকিবের উদাহরণ শুনলেই বোঝা যায়। সাকিব একবার বলেছিল, তারা জন্মগতভাবেই অ্যাথলেট। তাদের মধ্যে এ ব্যাপারটা আছে। যে কারণে সব সময় তাদের সঙ্গে একটা পার্থক্য থেকে যায় আমাদের। যার কারণে ওদের সঙ্গে আমাদের একটা ফারাক থাকেই। ওই জায়গাগুলো মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে ইতিবাচক থেকে যদি পূরণ করা যায়। এ ছোটখাটো জিনিসগুলো অনেক সময় ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। জিততে হলে তিন বিভাগেই আমাদের এগিয়ে থাকতে হবে।’

নতুন ভেন্যু, নতুন প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপে এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। তবে নিজেদের দিনে বাংলাদেশ যে কোনো প্রতিপক্ষকেই হারাতে পারে সে বিশ্বাস আর টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয়ই লাল-সবুজদের পুঁজি। অসি বাধা টপকাতে পারলেই স্বপ্নের ‘সেমিফাইনাল’ হাত বাড়িয়ে ডাকবে বাংলাদেশকে।

মন্তব্য লিখুন :