অজিদের উড়িয়ে ২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড

আদিল রশিদ আর ক্রিস ওকসের দুর্দান্ত বোলিং আর জেসন রয়ের ব্যাটিং তাণ্ডবে চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া স্টিভ স্মিথ আর অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে চড়ে করেছিল ২২৩ রান। মামুলি সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ইংলিশরা কোনো পাত্তাই দেয়নি অজিদের। জেসন রয়ের তাণ্ডবে তারা মাত্র ৩২.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে।

এবারের বিশ্বকাপে হট ফেবারিট ছিল ইংল্যান্ড। তবে শ্রীলঙ্কা আর অস্ট্রেলিয়ার সাথে টানা দুই ম্যাচ হেরে তাদের সেমিতে উঠাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ওই দুই ম্যাচে ছিলেন না রয়। শেষ দুই ম্যাচ যখন জিততেই হবে তখন মাঠে ফিরেন রয়। ফিরেই খেলেন দুর্দান্ত দুই ইনিংস। এবার আবারও ইংল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন তিনি।

এর আগে আরও তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল ইংল্যান্ড। তবে তিনবারই তারা হেরে যায়। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ফাইনাল খেলে তারা। মানে ২৫৭বছর পর ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংলিশরা।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। তবে খেলা শুরু হতে না হতেই বিপাকে পড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ১৪ রানের মধ্যেই তারা হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জফরা আর্চারের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন অ্যারন ফিঞ্চ। এরপর দলীয় ১০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৯ রান করে বিদায় নেন ডেভিড ওয়ার্নার। এবার আঘাত হানেন ক্রিস ওকস।

এরপর সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ফের আঘাত হানেন ওকস। এবার তার শিকার পিটার হ্যান্ডসকম্ব। তিনি ফেরেন দলীয় ১৪ রানের মাথায় ৪ রান করে।

এরপর আর অস্ট্রেলিয়াকে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে দেননি স্মিথ। ক্যারিকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেন প্রতিরোধ। প্রথমে তারা দেখেশুনে খেললেও ক্রিজে সেট হতেই চালাতে শুরু করেন ব্যাট। তবে তাদের জুটি যখন বড় সংগ্রহের পথ দেখাচ্ছিল তখনই জোড়া আঘাত হানেন আদিল রশিদ।

এরপর ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন স্মিথ। তবে সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। মাত্র ২২ রান করে জফরা আর্চারের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ম্যাক্সওয়েল। এরইমধ্যে নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন স্মিথ।

তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেনি কেউ। দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান প্যাট কামিন্সও। এতেই ১৬৬ রানে চলে যায় অজিদের ৭ উইকেট। তবে এই অবস্থা থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তুলেন স্মিথ আর স্টার্ক। অষ্টম উইকেটে এই দুজন গড়েন ৫১ রানের দারুণ এক জুটি। স্মিথ ১১৯ বলে ৮৫ রান করে রানআউটের শিকার হলে বাঙে জুটি।

এরপর শেষ দুই উইকেট হারিয়ে অজিরা যোগ করে মাত্র ৬ রান। শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভার খেলে তারা থামে ২২৩ রানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা কোনো পাত্তাই দেননি অজি বোলারদের। দুই ওপেনার বেয়ারস্টো আর জেসন রয় আজও ওপেন করেন। শুরুর দিকে দেখে শুনে খেলতে থাকেন তারা। তবে ক্রিজে সেট হতেই ব্যাট চালানো শুরু করেন রয়। ৫০ বলে তিনি পূর্ণ করেন নিজের হাফসেঞ্চুরি। এরপরই ধারণ করেন রুদ্রমূর্তি। পরের ১১ বলে ৩ ছয়ে করেন ৩০ রান। এতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অজিরা।

ইংলিশদের প্রথম ফিফটি আসে ৬০ বল থেকে। কিন্তু পরের ফিফটি পূর্ণ হতে লাগে মাত্র ৩৫ বল। ১৮তম ওভারে মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে বেয়ারস্টো সাজঘরে ফেরেন। তবে এর আগে তিনি করেন ৪৩ বলে ৩৪ রান। তখন দলীয় স্কোর ছিল ১২৪।

এরপর বিতর্কিত আউটে শেষ হয় জেসন রয়ের চমৎকার ইনিংস। বল ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেও ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন ইংলিশ ওপেনার! আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ৮৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন রয়। তবে আউট হলেও দলকে জয়ের পথ দেখিয়ে যান তিনি। কারণ তখন ইংলিশদের স্কোর ছিল ২০ ওভারে ১৪৭।

রয় আউট হলে জো রুট আর ইয়ন মরগানের বিশ্বস্ত ব্যাটে এগুতে থাকে ইংলিশরা। শুরুতে রুট একটু ধীরে খেললেও মরগান চালাতে থাকেন ব্যাট। তবে শেষের দিকে রীতিমতো ঝড় তুলেন রুট। যে কারণে জয় পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাত্র ৩২.১ ওভারেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংলিশরা।

মরগান ৩৯ বলে ৪৫ আর রুট ৪৬ বলে করেন ৪৯ রান।

মন্তব্য লিখুন :