জোঁক

অভ্যাসগতভাবেই প্রতিদিন

ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে

চুমুক দিয়ে ভাঁজ খুলি খবরের কাগজ।

শিরোনামের লাইনগুলোতে নিবিষ্ট হই।
রকমারি আশ্বাস আর নিঃশ্বাসের ফুলঝুরি।
তবুও হই ধৈর্যশীল হওয়া পাঠক;
হাজারও কাহিনীর কথকতা-
পক্ষাঘাতগ্রস্ত ইচ্ছেরা মুচড়ে ওঠে বাতের ব্যথায়।
রক্তের উচ্চ চাপ, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া-
হয়তো হয়ে যাবে নিমিষেই নিঃশেষ।
খুব ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি অস্তাচলের দিকে!
জীবনের মানে খুঁজি তালাবদ্ধ ঘরে,
হাড় হিমশীতে দেহ থরথর।
শীতের চাদর জড়িয়ে মুক্ত হাওয়ায়- খুঁজে
পেতে চাই আরও কিছুটা আয়ুষ্কাল।
চারদিকে চলছে এখন
শীর্ষত্ব লাভের দৌড়ঝাঁপ।
আফসোস হয়, সংরক্ষণ নয়; সংস্কারের
দ্রোহে ঝরে যায় কত তাজা প্রাণ!
পায়ের নিচে শিশির ভেজা ঘাসে
দেখি রক্তচোষা জোঁক।
অজান্তেই নিঃশেষ করে নেয়-
বহুদিনের রক্ষিত লোহিত কণা!
এত দৌড়ঝাঁপ! পেছনে ফিরে
তাকাবার সময় যেন নেই আর!
কিভাবে কখন যেন-
মনের অজান্তেই শেষ রক্তের বিন্দুটাও
শোষিত হয় চীনা জোঁকের পেটে!

কবি: শারমীন সুলতানা

মন্তব্য লিখুন :