কাল থেকে গোপালগঞ্জে শুরু হচ্ছে ওড়াকান্দির স্নানোৎসব ও বারুনী মেলা

আগামীকাল মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) থেকে গোপালগঞ্জে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব ও মেলা। লাখ লাখ ভক্তের সমাগমে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৮-তম জন্মতিথিতে স্নানোৎসব ও মহা-বারুনীর মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্নানোৎসব ও মেলা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিন সকাল সোয়া ৯টায় হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী ও স্নানোৎসব কমিটির সভাপতি হিমাংশুপতি ঠাকুর স্নানোৎসবের শুভ উদ্ভোধন করবেন। সঙ্গে থাকবেন, সচিপতি ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর ও সুপতি ঠাকুর শিবুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। স্নান চলবে বুধবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত।

এই উৎসবকে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় উচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিন লাখ লাখ মঁতূয়া ভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তরা এখানে স্নান করবেন তাদের পাপ মোচনের আশায়। স্নানোৎসব উপলক্ষে ঠাকুরবাড়ির আশপাশে বসে মহাবারুনী মেলা। মেলা চলবে তিন দিনব্যাপী। মেলায় কুঠির শিল্পের সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির জিনিস, বাঁশের জিনিস, খাদ্য সামগ্রী, নাগর দোলনাসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকে নানা আয়োজন।  

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী ও কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকা থেকে মঁতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দেবেন। তারা হাতে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান এবং ডাংখা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটে মছুটে আসেন তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। সব মিলে প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটে এই স্নানোৎসবে।

কাশিয়ানী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানটিকে নিরবিচ্ছিন্ন করতে দুইশত পুলিশ সদস্যের একটি শিপটিং তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। ইতোমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বলেন, স্নানোৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে বড় ধরনের জমায়েত হয়, সেই কারণে ঠাকুরবাড়ির প্রবেশ পথে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ চৌকিও (ওয়াচ টাওয়ার)।

মন্তব্য লিখুন :