না ফেরার দেশে অভিনেতা বাবর

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের দাপুটে খলঅভিনেতা খলিলুর রহমান বাবর আর নেই (ইন্না লিল্লাহি..... রাজিউন)।

সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। 

অভিনেতা বাবরের মৃত্যুর খরব নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার ব্রেন স্ট্রোক করলে বাবরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাংরিন (পচন রোগ) সমস্যায় ভুগছিলেন একসময়কার শক্তিমান খলঅভিনেতা বাবর। 

এর আগে বাবরের বাঁ পায়ের তিনটি আঙুল গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত ছিল। গত ৩ মে চিকিৎসকের পরামর্শে আক্রান্ত তিনটি আঙুল কেটে ফেলা হয়। ক্রমেই তার হাঁটুর নিচ পর্যন্ত আক্রান্ত হতে থাকে। চিকিৎসক তার পুরো শরীর বাঁচাতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। যার ফলে গত ৯ জুন অপারেশন করে তার বাম পা অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন বাবর।

চিত্রনায়ক সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, আজ বাদ জোহর এফডিসিতে তার মরদেহ আনা হবে। এফিডিসিতে জানাজা শেষে মরদেহ তার কলাবাগানের বাসায় নেয়া হবে। সেখান থেকে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

১৯৫২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় এই খল অভিনেতা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সুলতানা রহমান, মেয়ে ওমাইনা রহমান এবং ছেলে রিয়াদুর রহমানকে রেখে গেছেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি।

আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘বাংলার মুখ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন বাবর। খল অভিনেতা হিসেবে বাবরের যাত্রা শুরু হয় রাজ্জাক প্রযোজিত ও জহিরুল হক পরিচালিত ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। এরপর প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। 

প্রায় এক যুগ আগে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ‘তের গুণ্ডা এক পাণ্ডা’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন তিনি। বাবর ‘দাগী’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। পরিচালনা করেছেন ‘দয়াবান’, ‘দাগী’ ও ‘দাদাভাই’ নামের চলচ্চিত্রগুলো। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন :