সেই ইউনাইটেড, এই ইউনাইটেড

২০১৭-১৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বছরটা খুব একটা খারাপ যায়নি। কোচ মরিনহোর অধীনে তারা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে হয়েছে রানারআপ। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবে বছর শেষে ঠিকই একটি কাপ ঘরে তুলেছিল পগবা-সানচেজরা। তাই ওই মৌসুমকে ব্যর্থ অন্তত বলা যাবে না।

তবে নতুন মৌসুম আসতেই কি যেন হয়ে গেল ইউনাইটেডের। কোচ মরিনহো জড়িয়ে গেলেন খোলোয়াড়দের সাথে ঝামেলায়। সাইডবেঞ্চে বসিয়ে দিলেন সানচেজ-ফেলানির মতো তারকাকেও। এছাড়াও তাদের সেরা তারকা পগবাকে নামিয়ে নিয়ে এলন নিচে। ফলাফল, একের পর এক হার। একসময় এমন হলো যে ম্যানইউকে ছোট দলও পাত্তা দিচ্ছে না। বলে কয়ে হারাচ্ছে ম্যাচ বাই ম্যাচ।

এইতো কয়েকদিন আগের কথা দুর্বল ভ্যালেন্সিয়ার সাথে ৩-০ গোলে হারতে হলো মরিনহোর শিষ্যদের। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এরপরও ভেবেছিল ম্যানইউ পুরানো ছন্দে আসবে, কোচ কিছু একটা করবে। কিন্তু তাদের সব ভাবনা হয়ে গেল উল্টো। পরের ম্যাচে লিভারপুলের সাথে নিজেদের মাঠে গো-হারা হারল ঐতিহ্যবাহী এই দলটি। ব্যস ভেঙে গেল ভরসার বাঁধ।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে দিলেন মরিনহোকে, বরখাস্তের নোটিশ। মরিনহোও তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে গেলেন নিজ ঘরে। মৌসুমের মাঝপথে কোচ পরিবর্তনে চিন্তায় পড়ে যায় ম্যানইউ ও। নতুন কোচই বা পাবেন কোথায় আবার হঠাৎ করে এসে সেই বা কি করবে?

তবে কোচ তো লাগবেই। বাধ্য হয়েই অন্তঃবর্তীকালীন কোচ নিয়ে এলেন ইউনাইটেড মালিক। সেই কোচ আর কেউ নন তাদের বদলি স্পেশালিস্ট সোলেসকারকে। যে কিনা ম্যানইউতে শেষ মুহূর্তে গোল দেয়ার জন্য বিখ্যাত।

কোচের দায়িত্ব নিয়েই চমক দেখিয়ে ফেরলেন বেবি ফেস খ্যাত কিলার। প্রথম ম্যাচেই কার্ডিফকে হারিয়ে দিলেন ৫-১ গোলে। যে দল গোলের দেখা পাচ্ছিল সে দলের এমন সাফল্যে সবাই অবাক।

সোলেসকারের পরের চ্যালেঞ্জটা আসলো হাডলসফিল্ডের রূপে। এই ম্যাচেও বাজিমাত নতুন কোচের। জয় এলো ৩-১ গোলের। এরপর সর্বশেষ ম্যাচে বোর্নমাউথকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানইউ। মানে তিন ম্যাচে তারা দিয়েছে ১২ গোল আর খেয়েছে তিনটি। এর আগে লীগে ১৭ ম্যাচে তারা ২৯ গোল দিয়ে খেয়েছে ২৯টি। বোঝাই যাচ্ছে ১ মাসেই কি পরিবর্তন এনেছেন কোচ সোলেসকার।

মন্তব্য লিখুন :