লেভান্তের মাঠে বার্সার হার

একে তো প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল। লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচটাও কোপা ডেল রে’র। বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে তাই একাদশ সাজান অধিনায়ক লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, জেরার্ড পিকে, জর্ডি আলবাদের বাইরে রেখে। সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেন এক ঝাঁক তরুণকে। এই বিলাসিতার চরম মূল্যই দিতে হয়েছে বার্সা কোচকে। লেভান্তের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনার খেসারতের মূল্যটা আরও চড়া হতো, যদি ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ফিলিপে কুতিনহো মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোলটা না করতেন। হ্যাঁ, হারলেও শেষ দিকে পাওয়া অ্যাওয়ে গোলটা অনেকটাই স্বস্তি ফিরিয়েছে বার্সেলোনা শিবিরে। এই অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে হারের পরও কোপা ডেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার আশা ভালোভাবেই বেঁচে আছে বার্সেলোনার।

বেঁচে থাকতো হারলেও। তবে ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকলে কাজটা কঠিন হয়ে যেত। আগামী বুধবার ন্যু-ক্যাম্পে কোপা ডেল রের শেষ ষোল’র দ্বিতীয় লেগটাতে বার্সেলোনাকে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতো। পরীক্ষা এখনো দিতে হবে। তবে অ্যাওয়ে গোলটি হাতে থাকায় সেটা অনেকটাই সহজ। নিজেদের ঘরের মাঠের ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জিতলেই লেভান্তের স্বপ্নভঙ্গ করে শেষ আটে পা রাখবে বার্সা।

ফিরতি লেগে কী হবে, সেটা পরের বিষয়। তবে তারুণ নির্ভর বার্সেলোনাকে পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পুরো ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক লেভান্তে। বিশেষ করে, লেভান্তের দুর্দান্ত ফরোয়ার্ড লাইন-আপ সব সময়ই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বার্সেলোনার অনভিজ্ঞ রক্ষণভাগে।

বার্সার রক্ষণ দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লেভান্তে ফসলও ঘরে তুলে ম্যাচের শুরুতেই। ১৮ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

ম্যাচের বয়স ৪ মিনিটের কাটা স্পর্শ করার আগেই লেভান্তেকে এগিয়ে দেন এরিক কাবাকাও। দাপট অব্যাহত রেখে ১৮ মিনিটে আবারও গোল উৎসবে মাতে লেভান্তে। দারুণ এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এ মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লেভান্তেতে যোগ দেওয়া বজিয়া মেয়োরাল। বার্সেলোনা শিবিরে তখন বড় পরাজয়ের শঙ্কা। প্রথমার্ধের বাকিটা সময়ও বার্সেলোনার রক্ষণের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে লেভান্তের ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু গোল আর পায়নি।

গোল পায়নি বার্সেলোনাও। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মিরান্ডাকে তুলে নিয়ে সের্গি রবার্তোকে নামিয়ে দেন বার্সা কোচ। ৫৯ মিনিটে চুমিকে তুলে ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ত লেংলেতকেও নামান তিনি। এই দুই পরিবর্তে বার্সার রক্ষণ কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু আক্রমণে? ফিলিপে কুতিনহো, উসমানে ডেম্বেলেরা শত চেষ্টা করেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হন। ৬৭ মিনিটে তাই কোচ ভালভার্দে শেষ বদলি হিসেবে ডেনিস সুয়ারেজকে নামিয়ে দেন।

স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের সুবাদেই ৮৫ মিনিটে স্বস্তির অ্যাওয়ে গোলটি পেয়েছে বার্সেলোনা। বক্সের ভেতরে তাকে বিধি বর্হিভূতভাবে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোলটি করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কুতিনহো। যে গোলটি বার্সেলোনার আশার প্রদীপের সলতেটা দারুণভাবেই জ্বেলে রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন :