ভারতীয় লিগে খেলতে পারছেন না সাবিনা

ভারতের লিগ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। কলকাতা থেকেই ফিরতে হচ্ছে তাঁকে।

একের পর এক বিদেশে লিগের খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অধিনায়কের। দুর্ভাগ্যের বৃত্ত থেকে যেন বের হতেই পারছেন না সাবিনা খাতুন। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ খেলার উদ্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় পাঞ্জাবের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি। কলকাতা হয়ে পাঞ্জাবে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কলকাতা নেমে তিনি জানতে পারেন বিদেশি কোটায় খেলোয়াড় নিবন্ধনের আর কোনো সুযোগ নেই। এর ফলে ভারতের লিগে খেলা হচ্ছে না তাঁর। 

যদিও বিদেশি কোটায় খেলোয়াড় নিবন্ধনের বিষয়টি জানা ছিল না গোকুলাম কেরালা এফসি কর্মকর্তাদের। কেরালা রাজ্যের ক্লাব গোকুলামের হয়ে খেলার কথা ছিল সাবিনার। এক মাসের চুক্তির কপিও পাঠিয়েছিল তারা। সে সুবাদেই দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের লিগ মাতানোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি। ক্লাবের কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতার কারণে মাঝপথ থেকে ফিরতে হচ্ছে সাবিনাকে। ক্লাবের জানা ছিল না ৫ মে লিগ শুরু হওয়ার পর বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আজ মঙ্গলবার দুপুরের ফ্লাইটে কলকাতা থেকে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের গোল মেশিন।

বিষয়টি নিয়ে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না সাবিনা। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন  বলেন, ‘রাস্তার মাঝ থেকে ফিরে যাওয়া খুবই হতাশার। কিন্তু ভাগ্যের ওপর কারও হাত নেই।’

এর আগে ভিসা না পাওয়ায় চায়নিজ-তাইপের লিগ খেলতে যেতে পারেননি সাবিনা খাতুন। তাইপে লিগ খেলার আশায় ভারতের সাবেক ক্লাব সিথু এফসির প্রস্তাবও ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে দুই কূল হারিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক। এরই মধ্যে রবিবার রাতে ভারত থেকে সাবিনার জন্য এসেছিল ভালো খবর, বিদেশি কোটায় তাঁকে দলে পেতে চায় গোকুলাম। কিন্তু নতুন দলের জার্সিতে আর খেলা হলো না তাঁর।

দেশে মেয়েদের লিগ বন্ধ আছে প্রায় ছয় বছর হলো। ফলে লিগ খেলার স্বাদ পেতে দেশের বাইরে খেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। জাতীয় দলের খেলা না থাকলে সাবিনাকে অলস সময় কাটাতে হয় না বললেই চলে। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের বাইরের লিগগুলোতে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের গোল মেশিন।

বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন মালদ্বীপ ও ভারতের লিগে। গতবার প্রথমবারের মতো ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে নাম লিখিয়েই আলো ছড়িয়েছিলেন সাতক্ষীরার মেয়ে সাবিনা। প্রায় একক কৃতিত্বে সিথুকে তুলে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। তামিলনাড়ুর দলটির ১১ গোলের সাতটিই আসে সাবিনার পা থেকে।

মন্তব্য লিখুন :