একজন কফি আনান ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার

জাগরণ ডেস্ক: প্রথম মুসলিম, কৃষ্ণাঙ্গ ও আফ্রিকান হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কফি আনান। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কর্তব্যরত অবস্থায়ই তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ২০০১ সালে। অবসরের পর তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কাছে জার্মান ভাষাভাষী একটি গ্রামে বাস করছিলেন।


মাসখানেক আগে ৮০ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন একসময়কার বিশ্বের শীর্ষ এ কূটনীতিক। কফি আনানের পুরো নাম কফি আত্তা আনান। ১৯৩৮ সালে ঘানায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ইফুয়া আত্তা নামে তার এক যমজ বোনও ছিল।


তার জন্মস্থান কুসামি ঘানার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। কফি আনানের বাবা ছিলেন ঘানার একজন প্রাদেশিক গভর্নর। ঘানাতেই তিনি লেখাপড়া শেষ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকালেস্টার কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুইবার বিয়ে করেছেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট অফিসার হিসেবে। ১৯৬৫ সালে তিনি তিতি আলাকিজাকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। ১৯৮৩ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে কফি আনান বর্তমান স্ত্রী নেইন লাগেরগ্রেনকে বিয়ে করেন। কফি আনান যখন জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্বে তখন পৃথিবী অনেক কঠিন সময় পার করছে।


এ সময় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার নানা উদ্যোগ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ইরাক যুদ্ধ ও এইডস যখন মহামারী রূপ ধারণ করেছে তখন তিনি জাতিসংঘকে নিয়ে এর সমাধানের চেষ্টা করেন। এ জন্য ২০০১ সালে তিনি যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। কফি আনান দীর্ঘ ৪ দশক জাতিসংঘে কাজ করেছেন। তিনিই প্রথম মহাসচিব যে কিনা সাংগঠনিক পদ থেকে জাতিসংঘের প্রধান হয়েছেন। ইরাক যুদ্ধের সমালোচনা করতে গিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। এ সময় দেশটির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক যুদ্ধকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি। এর ফল ভোগ করতে হয় তাকে ২০০৫ সালে। সে বছর মহাসচিব হিসেবে কলঙ্কিত হন কফি আনান। খাদ্যের বিনিময়ে তেল কেলেঙ্কারি বিষয়ক এক তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে ও তার ছেলেকে অভিযুক্ত করা হয়। অনেকেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোতেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পরবর্তীতে নতুন করে তদন্ত করা হলে কফি আনানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় না। তবে তার ছেলে কোজোকে ওই লাভজনক কন্ট্রাক্টটি পেতে সাহায্য করার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে কফি আনান এ কথা স্বীকার করে নেন। এই কেলেঙ্কারি ছাড়া কফি আনান জাতিসংঘের সব থেকে জনপ্রিয় মহাসচিব হিসেবেই পদত্যাগ করেন।

মন্তব্য লিখুন :