বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ 


মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই কাপাশিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী ইয়াসিন আহমেদ খান, মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খানম।


তাজউদ্দীন আহমেদ স্থানীয় ভুলেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় কাপাশিয়া মিডল ইংলিশ স্কুল, কালিগঞ্জের সেন্ট নিকোলাস ইনস্টিটিউট, ঢাকার মুসলিম হাই ইংলিশ স্কুল ও সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলে শিক্ষালাভ করেন।


তাজউদ্দিন ঢাকা রেঞ্জে স্কলারশিপ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ও ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে চতুর্থ স্থান লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স সম্পন্ন করেন। রাজনীতির কারণে এমএ পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে জেলে থাকা অবস্থায় পরীক্ষা দিয়ে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।


১৯৫৯ সালের ২৬ এপ্রিল সৈয়দা জোহরা খাতুনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।


পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে গণতন্ত্রাতিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারির সক্রিয় নেতা। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবার জেল খেটেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় ’৭০-এর নির্বাচনে কাপাশিয়া আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।


১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৯ মাস পাকবাহিনির বিরুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে এনে দেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা।


১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে এলে তার হাতে ক্ষমতা তুলে দেন তাজউদ্দিন আহমেদ। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্য মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেন।


১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর তাজউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে জেলখানায় বন্দী করা হয়। বন্দী থাকা অবস্থায় ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে অপর তিন সহযোগীর সাথে নিহত হন দেশ গড়ার এই অন্যতম স্থপতি বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ।

মন্তব্য লিখুন :