বই পড়া আন্দোলনের কারিগর পলান সরকার আর নেই

রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বই বিতরণের মাধ্যমে বই পড়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা পলান সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

শুক্রবার (১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বাউশার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন পলান সরকার।

সামাজিকভাবে অবদান রাখার জন্য পলান সরকার ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।

তিনি রাজশাহী জেলার ২০টি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন অভিনব শিক্ষা আন্দোলন। নিজের টাকায় বই কিনে তিনি পড়তে দিতেন পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষকে।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেক দিন একেক গ্রামে যেতেন। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দিতেন। এলাকাবাসীর কাছে তাই পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘বইওয়ালা দুলাভাই’ হিসেবে।

পলান সরকার ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম হারেজ উদ্দিন। বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় ১ থেকে ১০ ক্রমিক নম্বরদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন।

তবে এর কিছু দিন পর থেকে সবাইকে বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বই বিলি করেছেন পলান সরকার।পরে সরকারিভাবে পলান সরকারের বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার করে দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে বিশ্বের ভিন্ন ভাষার প্রধান প্রধান দৈনিকে একযোগে পলান সরকারের বই পড়ার এই আন্দোলনের গল্প ছাপা হয়। তাকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক নির্মিত হয়েছে।

পলান সরকার মৃত্যুকালে তিনি ছয় ছেলে, তিন মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৮৫) মারা গেছেন।

ছেলে হায়দার আলী জানান, বার্ধক্যজনিত রোগে কিছু দিন ধরে তার বাবা শয্যাশায়ী ছিলেন। শনিবার সকাল ১০টায় বাউসা গ্রামে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্তব্য লিখুন :