স্মরণে মৃণাল সেন

উপমহাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের ৯৬তম জন্ম জয়ন্তী আজ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ফরিদপুরের ঝিলটুলিতে মৃণাল সেনের পৈত্রিক ভিটা সংলগ্ন মেজবান পার্টি সেন্টারে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই বাংলার সাংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

“উঠোন” সাহিত্য পত্রিকার ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলম চৌধুরীর পরিবারবর্গেন আযোজনে আলোচনাসভায় ভারত থেকে আসা মৃণাল সেনের পরবারের সদস্য ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

লেখক মফিজ ইমাম মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু। এসময় মৃণাল সেনের ভ্রাতুস্পুত্র পার্থ প্রতিম সেনও ভ্রাতুষ্পুত্রী শুক্লা সেন, নবনীতা সেন ও ড. বিপ্লব বালা উপস্থিত ছিলেন। এসময় সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী, নারী নেত্রী অঞ্জলী বালা প্রমূখ স্মৃতিচারনমূলক আলোচনায় অংশ নেন।

পরে নবনির্মিত স্মৃতি ফলকের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

১৯২৩ সালে ১৪ মে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম হয় মৃণাল সেনের। তবে পড়াশুনো, প্রথম চাকরি সবই কলকাতায়। জীবিকা শুরু করেন মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটিটিভ হিসেবেই। তবে ছাত্র জীবন থেকেই কমিউনিজম, গণ্যনাট্যের সঙ্গে পরিচয় তাঁর। মৃণাল সেন তাঁর আত্মজীবনী তে বার বারই বলেছেন, এই গণনাট্যই তাকে ছবি করতে বার বার অনুপ্রাণিত করেছে। মৃণাল সেনের কথায়, গণনাট্যের জন্যই দেশের মাটিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। গ্রামগঞ্জের ভিতরে ঢুকে আসল জীবনকে দেখেছেন। দেখেছেন মানুষের লড়াইকে। আর এই অভিজ্ঞতাই তাঁর ছবি তৈরির অন্যতম উপাদান।

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেন তৈরি করেন প্রথম ছবি ‘রাতভোর’। মুখ থুবড়ে পড়ে এই ছবি। ফিল্ম সমালোচকরাও খুব একটা ভালো চোখে দেখেননি এই ছবিকে। তবে এই অসফলতায় আটকে থাকেননি মৃণাল। এরপরই তৈরি করেন ‘নীল আকাশের নিচে’। এই ছবি শুধু সাফল্য নয়, সত্যজিৎ ও ঋত্বিকের পাশাপাশি বাংলায় যে মৃণাল সেন আছেন তারও এক আভাস দিতে স্বচেষ্ট হয়।

এরপর একে একে ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘ভুবন সোম’, ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘খারিজ’, ‘ইন্টারভিউ’, ‘ক্যালকাটা ৭১’, ‘পদাতিক’ ৷ এতদিনে তিনি বাংলা সিনেমায় নতুন ধারা শুরু করে ফেলেছেন ৷ তৈরি করেছেন ‘মৃগয়া’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘অন্তরীণ’ ৷ ২০০২ সালে মুক্তি পায় তাঁর তৈরি শেষ ছবি ‘আমার ভুবন’ !

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মৃণাল সেন। শেষ হয়ে যায় বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক সোনালি অধ্যায়। আজ তাঁর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মন্ত্রী গৌতম দেব। তালিকা রয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

মন্তব্য লিখুন :