নিম পাতার জাদুকরি সব গুণ

বাঙালির ঘরের সামনে নি গাছ থাকবে না এটা হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম গাছের হাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। তবে শুধু গাছের হাওয়াই নয় গাছের পাতারও রয়েছে নানা গুণ। যা জানলে আপনি অবাকই হবেন।

আসুন জেনে নেই নিম পাতার গুণগুলো:

১. কেটে বা ছড়ে গেলে বা পোকার কামড় খেলে ক্ষতস্থানে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। ইনফেকশন হবে না। ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকাবে।

২. নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।

৩. খুশকির সমস্যা থাকলে নিমপাতা ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করুন। জলের রং সবুজ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। শ্যাম্পু করার পরে ওই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

৪. চোখ জ্বালা করলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে নিমপাতা সেদ্ধ করুন। পানি ঠান্ডা হলে, তাই দিয়ে চোখ ধুলে উপকার পাবেন।

৫. ব্রণ বা মুখে কালো ছোপ থাকলে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। রণের সংক্রমণ হলেই নিমপাতা থেঁতো করে লাগালে ভালো ফল নিশ্চিত। মাথার ত্বকে অনেকেরই চুল্কানি ভাব হয়, নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে। নিয়মিত নিমপাতার সাথে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়।

৬. মধুর মধ্যে নিম পাতার রস মেশান। কানের ভিতর ইনফেকশন হলে বা কানের ভিতরে চুলকানি হলে এই মিশ্রণের দু-চার ফোঁটা কানের ভিতরে লাগান।

৭. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও নিমপাতা খুব উপকারী। নিয়ম করে নিমপাতা খান। নিমের ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক নাশক উপাদানের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিম মাথার তালুর শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে।

৮. পেটের সমস্যা হলেও নিমপাতা খেলে উপকার পাবেন।

৯. নিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চমৎকার ভাবে কাজ করে। নিমের পাতা রক্তের সুগার লেভেল কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্ত নালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন উন্নত করে।

১০. নিমের ব্যাবহারে উকুনের সমস্যা দূর হয়। নিমের পেস্ট তৈরি করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন, তারপর মাথা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন এবং উকুনের চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ান। সপ্তাহে ২-৩ বার ২ মাস এভাবে করুন। উকুন দূর হবে।

মন্তব্য লিখুন :