কোরবানির ঈদেও ডায়েট?

এইতো আমাদের সবার দোরগোড়ায় এসে গেল ঈদ। তাও কোরবানীর ঈদ। সারা বছর যে যেভাবেই কাটাক না কেন, ঈদে স্পেশাল খাবার না হলে কি চলে? এই ঈদে সহজেই খাবারের মেন্যুতে চলে আসবে গরু বা খাসির মাংস, মসলাযুক্ত খাবার সাথে নানান ধরনের মিষ্টান্ন। এই ঈদে যাদের তেমন শারীরিক সমস্যা নেই তারাও খুব টেনশনে থাকেন এই বুঝি ওজনটা বেড়ে গেল!

আর যাদের শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে ? হার্টের সমস্যা, হাইপার টেনশন, কিডনি-জটিলতা কিংবা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে যারা সমস্যায় ভুগছেন তারা এই কোরবানীর ঈদে খুব বিপদে পড়ে যান। তারা না পারেন এসব খাবার এড়াতে, না পারেন খেতে। 

তাই কোরবানির ঈদের এই সময়ে কি খাবেন, কিভাবে খাবেন বা কি বাদ দিবেন তা নিয়ে পুষ্টিবিদেরা কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ পরামর্শ অনুযায়ী চলতে পারলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই এড়াতে পারবেন।

১. কোরবানির ঈদে সব বাড়িতেই গরু বা খাসির মাংস থাকে। তাই যদি খেতেই হয় তবে পরিমান মতো খান। প্রয়োজনে একবারে অনেক না খেয়ে, অল্প অল্প করে দুই থেকে তিন বারে খান।

২. গরু বা খাসির মাংস রান্নার আগেই দৃশ্যমান চর্বির লেয়ার বাদ দিয়ে রান্না করুন।

৩. মাংসে এমনিতেই চর্বি বা ফ্যাট থাকে। তাই রান্নায় অল্প তেল ব্যবহার করুন, কেননা মাংসে থাকা চর্বি রান্না হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

৪. কোরবানি ঈদে মাংস না খেলে অনেকের যেন ঈদ-হয় না! তাই মাংস রান্না করার সময় রান্নায় টক দই ব্যবহার করতে পারেন। এতে খুব ভালো ফল পাবেন।

৫. ঈদে সাধারণত ভারী খাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। এতে শরীর কষে যায়। তাই মাংস রান্না করার সময় সবজি সমেত রান্না করুন। এতে রান্নায়ও ভিন্নতা আসবে আবার সবজিও খাওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাঁচা পেঁপে, টমেটো, ক্যাপসিক্যাম, বাঁধাকপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

৬. রান্নার পূর্বে চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করছেন, তারপরও চর্বির ভয় হচ্ছে? এমন ক্ষেত্রে মাশরুম ব্যবহার করতে পারেন। এতে যেমন ফ্যাট কমে আসবে তেমনি পুষ্টি গুণাগুণও বৃদ্ধি পাবে।


যারা অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করছেন অর্থাৎ ওয়েট রিডিউসিং ডায়েটে আছেন  অথচ কোরবানি ঈদে অল্প গরুর বা খাসির মাংস খেতে চান তাদের জন্য কিছু টিপস- 

১. গরু বা খাসির সলিড মাংস খান, ঝোল সম্পূর্ণ বাদ দিন। তবে কতটুকু খাওয়া যাবে, তার পরিমান জানতে আপনার ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদের সাথে যোগাযোগ করুন। 

২. অবশ্যই দুপুর বা রাতে খাওয়ার আগে এক বাটি সালাদ দিয়ে খাবার শুরু করুন। আর অতি অবশ্যই এক গ্লাস লেবু পানি দিয়ে খাওয়া শেষ করুন। এতে আপনার ডায়েট কিছুটা পরিপূর্ণতা পাবে। 

৩. মাংসের টুকরা ছোট ছোট করে রান্না করুন। কেননা বড় টুকরায় মাংসের লেয়ারে চর্বি থেকে যায়। তাই এতে ক্যালরি ও ফ্যাট দুটোই বেশি থাকে। 


তবে শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখেই আমাদের খাদ্য তালিকা পছন্দ করতে হবে। যেকোন উৎসবের দোহাই দিয়েই সব ধরনের খাবার খাওয়া ঠিক না। কেননা আপনার একদিনের অনিয়মিত চলার কারণেই পরবর্তীতে সারা বছর সমস্যা থেকে যেতে পারে। তাই যাই খান না কেন, একটু বুঝে শুনেই খান। 


নিশাত শারমিন নিশি

ডায়েটিশিয়ান

পপুলার মেডিকেল হসপিটাল

মন্তব্য লিখুন :