করোনার নিরব বাহক বিড়াল!

কীভাবে মানুষের শরীরে করোনাভাইরাস ঢুকল, তা না জানা পর্যন্ত এর প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব নয়। এমনটাই মনে করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO-এর বিশেষজ্ঞরা। WHO-এর মহামারী বিশেষজ্ঞ ডঃ মারিয়া ভ্যান জানান, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে চীনে WHO-এর শাখায় কর্মরত আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চীনে গিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই একদল মার্কিন বিজ্ঞানীদের নতুন দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বিভিন্ন মহলে।

মার্কিন ষুক্তরাষ্ট্রের ‘উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়’-এর একদল গবেষক দাবি করলেন, বিড়ালের থেকে খুব সহজেই নাকি ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস!

সম্প্রতি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক কাওয়া ওকা ও পিটার হফম্যান জানান, একটি বিড়াল থেকে অন্য বিড়ালে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস। তাঁরা জানান, গবেষণাগারে তাঁরা তিনটি করোনা আক্রান্ত বিড়ালের সঙ্গে তিনটি সুস্থ বিড়ালকে পাশাপাশি রেখে দেখেছেন। তিন দিনের মধ্যে তিনটি সুস্থ বিড়ালের শরীরেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও করোনা আক্রান্ত বিড়ালের মধ্যে অসুস্থতার কোনও উপসর্গ প্রকাশ পায়নি।

উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই গবেষক আরও জানান, বিড়াল করোনাভাইরাসের নিঃশব্দ বাহক হতে পারে তবে এই প্রাণীটির থেকে মানুষের শরীরেও ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, এমন কোনও প্রামাণ এখনও পাননি তাঁরা। এ বিষয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

ইতিমধ্যেই চিরিয়াখানার বাঘ, সিংহদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন স্কুল অব ভেটারনিটি মেডিসিন’-এর অধ্যাপক ইশোশিহিরো কাওয়া ওকা জানান, ২০১৬ সালে H7N2 ইউফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত পশুদের চিকিৎসা করতে গিয়েছে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের অ্যানিম্যাল শেল্টারের পশু চিকিৎসকরাও। তাই বিড়াল থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।