রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট

কক্সবাজারের মহেষখালীর সাগরতলে পাইপলাইনের ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বন্দর নগরীর পাশাপাশি রাজধানীতেও দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। উত্তরা, আজিমপুর, ঝিগাতলা, পান্থপথ, রামপুরা, বনশ্রী, মিরপুরসহ পুরনো ঢাকার বেশীর ভাগ এলাকায় দিনের বেলা গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্নাই করা যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিভাগের এক কমকর্তা জানান, শনিবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাগরের নিচে পাইপলাইনের সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চট্টগ্রামে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে জাতীয় গ্রিডেও গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন ১৫ কোটি ঘটফুট গ্যাস কম পাচ্ছে তিতাস, যা স্বাভাবিক সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ। এই অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কল কারখানার চাহিদা পূরণে জোর দিতে হচ্ছে বলে গত তিন দিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। 

আজিমপুরের বাসিন্দা তাসমিন রুহিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই সকাল ১০টার পর গ্যাসের চাপ এত কমে যায় যে রান্না করা যায় না। বিকাল ৪টার পর গ্যাস সরবরাহ ঠিক হয়।

মিরপুর ১৪ থেকে স্নিগ্ধা রহমান বলেন, রবিবার সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ এত কম যে চায়ের পানিও গরম করতে পারিনি। দুপুরে রান্না করা যাচ্ছে না। বিকালের দিকে সব রান্না সারতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, এলএনজির কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে তা খুব বেশি নয়। আমরা সরবরাহ সাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। আমরা বিদ্যুতে সরবরাহ কমিয়ে অন্যগুলাতে সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। বিদ্যুতে দু’ধরনের জ্বালানি দিয়ে (ডুয়েল ফুয়েল) যেসব কেন্দ্র চলে সেগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছি । তিতাসের মোট ১৯টি বিদ্যুৎ  কেন্দ্রের মধে ১০টি কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  শনিবার যেখানে ২ হাজার ৯৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে কাল ২ হাজার ৭১৩ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়েছে। ঘাটতি হয়েছে ২৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এরমধ্যে বিদ্যুতে ২ হাজার ৫৪ মিলিয়নের চাহিদার বিপরীতে  সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সার কারখানায়  ৩১৬ মিলিয়নের বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

মন্তব্য লিখুন :