নুসরাতকে হত্যা করা হয় যে ২ কারণে

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার দুই কারণ বেরিয়ে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্তে। একটি কারণ হচ্ছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ আলেম সমাজকে হেয় করেছে নুসরাত। আর দ্বিতীয়টি, শাহাদাত দফায় দফায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে রাফিকে। কিন্তু রাফি শামীমের সেই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর নুর উদ্দিনসহ কয়েকজন অধ্যক্ষের সাথে জেলে দেখা করেন। আর সেখান থেকেই নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করার নিদের্শ আসে।

কারাগারে সিরাজের সাথে দেখা করা সবার নাম প্রকাশ না করে বনজ কুমার বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির পক্ষে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীমসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় ৪ এপ্রিল। স্মারকলিপি দিয়ে ওই দিনই কারাগারে সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে। সেখানে গিয়ে রাফিকে হত্যার নির্দেশ নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, সোনাগাজী মাদ্রাসার পাশে দু’টি হোস্টেল আছে। সেখানকার পশ্চিম হোস্টেলে ছিল নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ পাঁচজন। পরদিন ৫ এপ্রিল তারা সেখানে বসে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনাতে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, রাফিকে পুড়িয়ে মারা হবে। রাফিকে এই সিদ্ধান্ত তারা নেয় দু’টি কারণে। প্রথমত, মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ আলেম সমাজকে হেয় করেছে নুসরাত। দ্বিতীয়ত, শাহাদাত দফায় দফায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে রাফিকে। কিন্তু রাফি শামীমের সেই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণে রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রথম প্রস্তাবটি দেয় শামীম।

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, পরিকল্পনার বিষয়টি পরে আরও পাঁচজনের সঙ্গে শেয়ার করে তারা। তাদের মধ্যে দু’জন মেয়ে। তারা ওই মাদ্রাসারই ছাত্রী। সেই দুই মেয়ের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনটা বোরকা ও কেরোসিন আনার জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেয়েটি বোরকা ও কেরোসিন সরবরাহ করে শামীমের কাছে। এরপরই তারা ৬ এপ্রিল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাফির শরীরে আগুন দেয়।

মন্তব্য লিখুন :