পুরান ঢাকায় জাঁকজমকভাবে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন

সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার সকল শ্রেণীর মানুষ পহেলা বৈশাখের আমেজে মেতে উঠে। তারা ঘুম থেকে উঠে যার যার মতো নতুন পোশাক পরিধান করে। আগে থেকেই সকালের পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ প্রস্তুত করে রাখে। তারপর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। বাজারের সকল দেনা পাওনা পরিশোধ করে হরেক রকমের মিষ্টি-মিঠায় নিয়ে বাড়িতে ফেরে। বিকালে তারা বৈশাখী মেলায় ঘুরতে যায়। 

এভাবেই বাঙালির সবচেয়ে প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ উদযাপন করে আসছে পুরান ঢাকার বসবাসরত সকল মানুষ। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। প্রতিবারের ন্যায় এবারও পুরান ঢাকায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪২৬।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারি বাজার ও তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করে তুলেছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। আর কিছু ব্যবসায়ীরা ফুল দিয়ে দোকান সাজিয়ে হালখাতা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর তাদের খরিদ্দাররা বকেয়া পরিশোধ করছেন।

পুরান ঢাকার প্রাচীনতম মেলার মধ্যে প্রথমে গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠের মেলার কথাই চলে আসে। এখনো পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন দোকানের স্টল বসেছে। মেয়েদের সকল ধরনের কসমেটিকস দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। যার কারণে মেয়ে ক্রেতাদের মেলার প্রতি আলাদা আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে। মেলায় শিশুদের জন্য নাগরদোলা, নৌকার দোলা, জাদুর খেলা আছে। 

এ ছাড়া প্রাচীন কুঠির শিল্পের হাড়ি পাতিলসহ মাটির তৈরি জিনিসপত্র আছে। সেখানে সারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানের মেলাপ্রেমী মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন। তাছাড়া মেলাকে ঘিরে পুরান ঢাকায় আলাদা আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সকল রাস্তায় মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

মেলায় ঘুরতে আসা ঢাকার মুরাদপুরের অভি বলেন, আমি প্রতিবছর মেলায় আসি। এবার পরিবার নিয়ে এসেছি। কিন্তু মেলায় মানুষের এত ভিড় যে তিনবার মেলায় ঢুকতে গিয়েও ভেতরে যেতে পারিনি। তবে এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।

দর্শনার্থী লক্ষ্মীবাজারের রহিম ফরায়েজি বলেন, আমাদের গ্রামে মেলা বসে কিন্তু গ্রামে যেতে পারিনি। তাই ছোট দুই ভাইকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য মেলায় এসেছি।

ধুপখোলার বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার এ্যান্ড ফুড প্যালেসের ম্যানেজার মিটন বলেন, পহেলা বৈশাখে উপলক্ষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বানিয়েছি। আমরা বিকাল পর্যন্ত মোটামুটি মিষ্টি বিক্রি করেছি। তবে সন্ধ্যার পর মিষ্টি সব শেষ হয়ে যাবে।

গেন্ডারিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুল হক পহেলা বৈশাখের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমাদের পহেলা বৈশাখ পালনের অতীত অনেক সমৃদ্ধ ছিল। তখন পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের প্রচলন ছিল না। বর্ষবরণের দিন স্বাভাবিক খাবার খাওয়া হতো। আমাদের সময় পহেলা বৈশাখে বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন বেড়াতে আসতো।

মন্তব্য লিখুন :