অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ, ব্রাইট ফিউচারের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্রাইট ফিউচার হোল্ডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রেজাউল ইসলাম সোহেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী মামলাটি করেন। 

শুনানির পর মঙ্গলবার বিচারক মো. শরীফ উদ্দিন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাকে বাদিনীর আরজি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- সোহেলের সহযোগী পারভীন আক্তার, কাজী সামছুর রহমান এবং হারুন অর রশিদ।

মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে রেজাউল ইসলাম সোহেলের অনেক আগে থেকে পরিচয়। ২০১২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে ৩ কাঠা প্লট কিনতে সোহেলের সঙ্গে তার মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক তিনি সোহেলকে ২৪ লাখ টাকা দেন। ১৪ মাস পর সোহেল চুক্তিটি বাতিল করে গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট থেকে একটি ফ্ল্যাট তাকে দিতে একটি লিখিত চুক্তিতে সই করেন। দুই বছর পরও সোহেল ওই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে টালবাহানা শুরু করলে বাদী তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর কয়েকটি সালিশি মামলা দায়ের করেন। এক সালিশে আসামি তার একটি প্রজেক্ট বিক্রি করে বাদীকে ৬৪ লাখ দেবেন বলে জানান এবং তার এক কর্মচারীর মাধ্যমে ৭ লাখ টাকার ছয়টি চেক বাদীকে দেন। চেক দেয়ার পর আসামি বাদীকে বীমা চেক ও চুক্তিনামা ফেরত দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে আসামি বাদীকে হুমকি দেন। এরপর মামলায় তাকে আপসের প্রস্তাব দেন।

আসামি পারভীন আক্তার আপসের বিষয়ে তাকে বোঝান এবং বলেন, তাকে অন্যত্র প্লট দেবেন। গত ২৪ এপ্রিল আসামিদের সঙ্গে বাদীর মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাদী আপসের কথা না মানলে সোহেল তাকে তার একান্ত রুমে নিয়ে আলাপ করেন। 

সোহেল বাদীকে বলেন, তাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তাকে জমি ফেরত দেবেন। বাদী অন্তঃসত্ত্বা জানালেও পারভীনের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। বাদী দরজায় ধাক্কা মেরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে কাজী সামছুর রহমান এবং হারুন অর রশিদ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। মামলা তুলে না নিলে এবং ধর্ষণের কথা কাউকে বললে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন তারা।

মন্তব্য লিখুন :