রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ উদারতা দেখিয়েছে

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রোহিঙ্গারা নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার আগে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। হাজার হাজার প্রবীণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তারা অমর্যাদাকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাত থেকে বাঁচতে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বুধবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। এদিকে একই দিন ইউএনএইচসিআরের বার্ষিক ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ উদারতা দেখিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ক্রাইসিস অ্যাডভাইজার ম্যাথু ওয়েলস জানান, ‘ফ্লিং মাই হোল লাইফ : ওল্ডার পিপলস এক্সপেরিয়েন্স অব কনফ্লিক্ট অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

সামরিক সংঘাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে মিয়ানমারে বয়স্ক নারী ও পুরুষ রোহিঙ্গারা কিভাবে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাদের মানমর্যাদা কিভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।

ম্যাথু ওয়েলস আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা সামরিক বাহিনীর হাতে নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে যেমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে, প্রবীণদের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়, ৭০ বছরের ইতিহাসে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক শরণার্থীর সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, এ প্রতিবেদনে আরও একবার প্রমাণিত হল যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ উদারতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বেশি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরের স্থানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে- মালয়েশিয়া (১ লাখ ১৪ হাজার ২০০ জন), থাইল্যান্ড (৯৭ হাজার ৬০০ জন) এবং ভারত (১৮ হাজার ৮০০ জন)।

যুদ্ধ, নির্যাতন ও সংঘর্ষে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ২০১৮ সালে ৭০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালের শেষদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বছর (২০১৮) শেষে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সবচেয়ে বেশি আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ (৯ লাখ ৬ হাজার ৬০০ জন)। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা আরও একটু বেশি ছিল (৯ লাখ ৩২ হাজার ২০০ জন)।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইন প্রদেশকে তাদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আসিয়ান।

বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৩৪তম আসিয়ান সামিটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা এ আহ্বান জানান।

মন্তব্য লিখুন :