বন্যা পরিস্থিতি: কোথাও উন্নতি, কোথাও অবনতি

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী দু’একদিনের মধ্যে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।

শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, সিলেটে ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।

কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, জামালপুর এবং পদ্মা নদীর সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা ছাড়া প্রধান প্রধান নদীর পানি সমতলে হ্রাস পাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানাগেছে:

যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সিরাজগঞ্জে পাঁচ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরিদপুর সদরসহ জেলার চারটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীরচর, নর্থচ্যানেল, আলীয়াবাদ, চরমাধবদিয়া ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতি মিনিটে মিনিটে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বর্তমানে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নওগাঁর আত্রাই এবং ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গত বুধবার (১৭ জুলাই) ভোর রাতের দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর বনকুড়া নামকস্থানে বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পর শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভোরে নওগাঁর রানীনগরে নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চি নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর বেরি বাঁধ ভেঙে নতুন করে ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলার প্রায় পৌনে ২ লাখ পরিবার এখন বন্যাদুর্গত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার রাত থেকে একটা ভালো পরিবর্তন হবে।

মন্তব্য লিখুন :