মিন্নি হত্যার সাথে জড়িত ছিল: আদালতে রিফাত ফরাজি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত ছিল বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী। একইসাথে তিনি দোষও স্বীকার করেছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিফাত ফরাজী।

রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হুমায়ুন করিব বলেন, তৃতীয় দফায় সাতদিনের রিমান্ড চলাকালে আদালতে হাজির করলে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিফাত ফরাজী। স্বীকারোক্তিতে রিফাত ফরাজী এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত বলেও আদালতের বিচারককে জানিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় মিন্নির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এর আগে, গত শনিবার মিন্নির শ্বশুর দুলাল শরীফ তার ছেলে রিফাত শরীফ হত্যার সাথে মিন্নি জড়িত বলে বক্তব্য দেন। একই সাথে মিন্নিকে আটক করারও দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নেয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তার প্রমাণ পাওয়ায় রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মিন্নি। তার বক্তব্য রেকর্ড ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা পুলিশ লাইনে আনা হয়। রাতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর মিন্নিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হলেও দুইদিনের রিমান্ত শেষেই আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে মিন্নির বাবার দাবি জোর করে তার মেয়ের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :