ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে ২ জনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা

সারাদেশে ছেলেধরা গুজবে ঘটে যাচ্ছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। শুধু গত ৭ দিনেই নিহত হয়েছে সাতজন। তাদের মধ্যে আছেন মাসিক ভারসাম্যহীন দুই নারী ও এক প্রতিবন্ধীও। এছাড়া এই সাতদিনে গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে গেছে যে রাস্তায় বের হওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব ঘটনা ঠেকাতে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সারাদেশের পুলিশকে করা হয়েছে সতর্ক। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার।

তবে এসবের মাঝে ঘটে গেছে দুইটি লোমহর্ষক ঘটনা। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দুইজনকে। একটি ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ও অপরটি ঢাকার ধামরাইয়ে।

জানাগেছে,  প্রায় ১০ বছর আগে শামসুন্নাহারের সঙ্গে বিয়ে হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকার বাক প্রতিবন্ধী সিরাজের। ৬ বছরের এক মেয়ে রয়েছে তাদের। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন।

বছর খানেক আগে এলাকার বিদ্যুৎ মিস্ত্রী আ. মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান সিরাজের স্ত্রী শামসুন্নাহার। এক পর্যায়ে পালিয়ে যান তারা। সঙ্গে নিয়ে যান মেয়ে মিনজুকেও। অনেক খুঁজেও কোনো হদিস পাননি। ৫-৬ মাস আগে স্ত্রী শামসুন্নাহার তালাকনামা পাঠান সিরাজের কাছে।

কিছুতেই ভুলে থাকতে পারছিলেন না মেয়েকে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজও করেছিলেন। কিন্তু পাননি। অবশেষে মেয়ের খোঁজ পেয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না বাক প্রতিবন্ধী সিরাজ। ২০ জুলাই বাড়ির পাশের একটি মোবাইল ফোনের দোকান মালিকের কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার নিয়ে মেয়ের জন্য চুড়ি ও লিপিস্টিক কিনে মেয়ের কাছে যান। কিন্তু সেই যাওয়ায় তার শেষ যাওয়া। স্ত্রীর বর্তমান স্বামীর ভুল তথ্যে তাকে গণপিটুনিতে মরতে হলো।

নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় বসবাস করা মেয়েকে দেখতে যান সিরাজ। মেয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেল তাকে দেখে ফেলে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দিলে এলকাবাসী গণধোলাই দেয় সিরাজকে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সেলিম মিয়া বলেন, এখনো কেউ মামলা করেনি। ঘটনাটি তদন্তাধীন।

এদিকে, ঢাকার ধামরাইয়ের প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে প্রতিবেশী রোজিনার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি রোজিনার স্বামী সাইফুল ইসলাম জানতে পারেন। রবিবার রাতে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে আসেন আজাদ। এ সময় সেখানে তাকে প্রথমে ছেলেধরা ও পরে ডাকাত বলে পিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশ গিয়ে সোমবার লাশ উদ্ধার ও পরকীয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হলে স্বামী- স্ত্রীসহ তাদের সহযোগী ছয়জনকে আটক করে।

ধামরাই থানা পুলিশের ওসি দীপক সাহা বলেন, প্রথমিকভাবে নিশ্চিত যে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকারীরা নিজেদের বাঁচাতে নানা উপায় খুঁজতে থাকে ও ভুল তথ্য দেয়।

মন্তব্য লিখুন :