মায়ের কথা মনে পড়লেই কেঁদে উঠছে তোবা

ঢাকার বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তির জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার শিকার তাসলিমা বেগম রেনুর (৪০) দাফন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

তাসলিমার মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর ছোট মেয়ে তাসনিম তুবা। মায়ের কথা মনে পড়লেই কেঁদে উঠছে সে। তখন তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখছে স্বজনরা। কখনো বলছে, আম্মু নিচে গেছে। তার জন্য ড্রেস নিয়ে আসবে। কখনো মজার খাবারের আশ্বাস দিয়ে চুপ রাখছে। কখনো বিভিন্ন রকমের খেলার সামগ্রী দিয়ে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখছে। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র আড়াই বছর।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগনে ও বোন রেহানা। তারা জানান, নিহতের নাম তাসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে স্বামী তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।

নিহতের ভাগনে নাসির উদ্দিন বলেন, রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।

এই হত্যাকাণ্ডের জন্য গোটা সমাজকেই দায়ী করছে রেনুর পরিবার। সবকিছু ছাপিয়ে রেনুর আদরের সন্তান তুবার ভবিষ্যত নিয়েই চিন্তিত সবাই। তাসনিম তুবার বয়স মাত্র ৪ বছর। সদা চঞ্চল ফুটফুটে এই শিশু এখনও টের পায়নি ছেলেধরা গুজবে এই সমাজের মানুষরাই তার মমতাময়ী মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় তাসলিমার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এ সময় পরিবারের লোকজন গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য লিখুন :