রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে বোঝাবে চীন

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজে পেতে চীন মিয়ানমারকে বোঝাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন লি কেকিয়াং।

বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। লি কেছিয়াং এ সমস্যা দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সমাধানেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চীন এই সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।

চীনা প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁরা মনে করেন যে এ সংকট দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ে চীনের বন্ধু হওয়ায় আগেও চীন এ বিষয়ে সাহায্য করেছে। সুতরাং দুই দেশকে সংলাপে বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব অপরিহার্য। কিন্তু মিয়ানমারে নিজেদের বাড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলেছে।

দিন দিন রোহিঙ্গা সংকট বড় হয়ে উঠবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা দ্রুত সমাধান করা দরকার। রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফেরা হলো এ সংকটের সমাধান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই ও সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ মিয়ানমারে ফিরতে চান না। কারণ তারা ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ভয় দূর করে নিরাপত্তা, সম্মান ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ভূমি ও সম্পদ ফিরে পেতে মিয়ানমারে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে চীন ভূমিকা পালন করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কেছিয়াং বলেন, চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে আমরা আবারও আমাদের মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাব।

মন্তব্য লিখুন :