রিফাত হত্যা: নতুন ভিডিও ফুটেজ সামনে

বরগুনার আলোচিত কলেজ ছাত্র শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনার নতুন একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। শনিবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা গেছে। ভিডিওটি ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের।

নতুন ফুটেজে দেখা গেছে, রিফাত ফরাজী কলেজ গেটে এসে রিফাত শরীফকে কলেজ থেকে বের করে পূর্ব দিকে নেওয়ার ইশারা দেয়। ১০টা ১২ মিনিটের সময় কলেজের পকেট গেট দিয়ে রিফাতকে মারতে মারতে বের করে আনা হয়।


১০টা ১৩ মিনিটের সময় রিফাত ও রিশান ফরাজী তাকে মারতে মারতে ক্যালিক্স একাডেমির সামনে নয়নের কাছে নিয়ে যায়। এ সময় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও তাদের পেছন পেছন যান। সেখানে নয়নের সঙ্গীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। মিন্নি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।



একপর্যায়ে রিফাত ফরাজী পূর্ব দিকে দৌড়ে গিয়ে দু’টি রামদা নিয়ে আসে। একটি রামদা নয়নের হাতে তুলে দেয়, অন্যটি দিয়ে নিজেই রিফাতকে কোপাতে শুরু করে। এ সময় মিন্নি হত্যাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নয়ন ও রিফাত ফরাজী রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় নয়নের একটি কোপ রিশানের হাতে লাগে।


১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রামদা হাতে নিয়ে কলেজ রোডের পশ্চিম দিকে চলে যায় রিফাত ফরাজী, নয়নসহ বাকিরা।


তাদের পেছনে আহত অবস্থায় কয়েকজন রিশানকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় রাস্তায় উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখলেও সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি।



এ ঘটনার পর নয়নরা যখন পালিয়ে যায় তখন একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে হাতে তুলে দেন। মিন্নি স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁটতে থাকেন। এ ঘটনার ৮ মিনিট পর একটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।



প্রসঙ্গত, ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত ৫ জন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ৬ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ভিডিও লিঙ্ক: https://www.facebook.com/nafis.islam.10/videos/2419173434809514/

মন্তব্য লিখুন :