অসুস্থ মায়ের সাথে হাসপাতালে আসা শিশুকে ধর্ষণ

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে একটি ট্রেনের ভেতরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সম্রাট নামের একজনকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ট্রেন যাত্রীরা।

প্রথমে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ও পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগীকে নেওয়া হয় কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে। এরপর কেটে গেছে ১২ ঘণ্টা। পরদিন আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে বসিয়ে রাখা হয় কমলাপুর রেলওয়ে থানায়।

পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে মামলা করা হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত বেশি হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় ঘটনার তদন্ত শেষ করে মামলা দায়ের করতে দেরি হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

সম্রাট কমলাপুর রেলস্টেশনে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ি মানিকনগরে।

জানা যায়, ভুক্তভোগীর নানি মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার বিকালে হাসপাতালের নিচে নামলে সেখান থেকে ভুল বুঝিয়ে সম্রাট তাকে রিকশায় করে কমলাপুর নিয়ে যায়। কমলাপুরে ট্রেনের মধ্যে ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীরা তার সঙ্গে কেউ আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে ওই যুবককে পাওয়া যায়। শিশুটি অসুস্থবোধ করায় এবং ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটকে রাখেন ট্রেনের যাত্রীরা। বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে রেপ ভিকটিমদের চিকিৎসা করা হয় না বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তারা জানান, তাকে নিয়ে যেতে হবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে ভুক্তভোগী শিশুকে নিয়ে যাওয়া হয় কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে। রাত দেড়টার দিকে মানিকনগর থেকে শিশুটির মাকে আনা হয়।

পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে মামলা করা হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর রুশো বণিক বলেন, আমরা শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। গতকাল (বুধবার) রাত হয়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে আজ পাঠানো হয়।

মন্তব্য লিখুন :