পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে, গুজবের শুরু যেখান থেকে

দ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের কাটা মাথা লাগবে বলে সারাদেশে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

প্রশ্ন হলো এই গুজব ছড়ালো কীভাবে অথবা কারা ছড়িয়েছে?

জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ মার্চ নদীতে পশুর রক্ত ঢেলে পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময় নদীতে গরু ও খাসির রক্ত ঢালতে দেখা যায় চাইনিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। ভাসিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুরগিও। তাদের বিশ্বাস, বড় কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, এড়ানো যায় বড় দুর্ঘটনা। তখন গণমাধ্যমেও এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময়ের রক্তের ছবি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল। অসাধু ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল তথ্য আড়াল করে পুরনো সেই ছবিকে মানুষের রক্তের ছবি বলে চালাতে থাকে।

পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৬- ২০১৭ সালে এই চক্রটি চুপচাপ ছিল। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই গুজবের সূত্রপাত হয় । এরপর গত কয়েক মাস চুপচাপ থাকার এবছরের মার্চ মাস থেকে ফের শুরু হয় গুজব। বলা হয়, পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগবে।  একটি চক্র এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। পুলিশ সদর দফতর এই ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণাকে ‘কুচক্রী মহলের গুজব’ বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এই গুজবের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে লেখা চিঠিতে এ তথ্য জানান।

ওই চিঠিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনও সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন :