পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নৌযান চললেও তীব্র স্রোত ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি

দমকা বাতাস ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোটসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল ১৬ ঘন্টা পর চালু হয়েছে। তবে এখনো ভারী বৃষ্টিপাত আর নদী উত্তাল থাকায় চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে ঈদ যাত্রা।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৬ ঘন্টা লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে নদী পারাপার হতে আসা যাত্রীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ায় যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে উক্ত নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। মালিকরা পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে চলাচলকৃত সকল ধরনের লঞ্চ ও স্পিডবোট বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বন্ধ রাখেন। এতে বিপাকে পড়েন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।  

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৩৫টি লঞ্চ, ১০টি রো-রো ২টি কেটাইপ, ও ৭টি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে কে টাইপ ও ইউটিলিটি ফেরিগুলো চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ঘাটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ফেরিগুলো চালু রাখা হয়। নদীতে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে বৃহস্পতিবার পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আব্দুস ছোবাহান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে প্রচন্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্রোতের বিপরীতে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় পুরাতন অনেক ফেরির ইঞ্জিন দুর্বল হওয়ায় স্রোতের বিপরীতে চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা জোনের নৌ নিট্রা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে লঞ্চ দুর্ঘটনা এড়াতে বুধবার সাড়ে ৩টা থেকে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চসহ সকল ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে গেলে দীর্ঘ ১৬ ঘন্টা পর আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :