পাটুরিয়ায় যানজট, ভোগান্তিতে ঘরে ফেরা মানুষ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। যদিও রবিবার থেকে ঈদের ছুটি। কিন্ত শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় যাত্রীরা গন্তব্যে ছুটতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। ফলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-পথে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে পাটুরিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার এবং দৌলতদিয়া ঘাটে ৪ কিলোমিটর যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই ফেরি পারের জন্য ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে পাটুরিয়া ঘাটে। শুক্রবার মহাসড়কে শত শত বাস ও ছোট গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাটুরিয়া ঘাটে এসে বৃষ্টিতে ভিজে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগরের দিকে যানজট হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে পাটুরিয়া ঘাটে। দফায় দফায় মহাসড়কের যানজট ছেড়ে গাড়িগুলো এক সাথে ঘাট এলাকায় আসছে। ফলে পাটুরিয়া ঘাটে হঠাৎ করে যানবাহনের চাপ পড়ছে। এতে ফেরি ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যানবাহন ও যাত্রী পার করতে হিমশিম খাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে গাড়ি পারাপার হলেও পেছনের দিকে নতুন নতুন গাড়ি বহরে যুক্ত হয়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন বাড়তে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এসব যানবাহন ফেরি পার হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

এদিকে লঞ্চ ঘাটে উপচে পড়া ভিড় হয়েছে যাত্রীদের। ভিড় ঠেলে যাত্রীরা লঞ্চ ও ফেরিতে পার হচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী-পাটুরিয়া ফেরিসংযোগ সড়কের কিছু কিছু স্থানে ঢাকা অভিমুখী যানবাহন সড়কের ফাঁক গলে যাওয়ার সময় আটকে পড়ে যানজটের সৃষ্টি করেছে। পাটুরিয়া ফেরি ঘাট থেকে চড়েরডাঙ্গা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ সাড়িতে যানবাহন পারের অপেক্ষায় রয়েছে।

আরসিএল মোড় থেকে বাইপাস সড়কে ছোট যানবাহন ৫ নম্বর ফেরি ঘাটে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর মূল সড়কে অস্থায়ী ডিভাইডার দিয়ে ফেরি পারের জন্য যানবাহন এবং পৃথক লেনে লঞ্চ পারের জন্য যাত্রীবাহী যানবাহন পাটুরিয়া ঘাটে প্রবেশ করছে। লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় পড়েছে। অনেক যাত্রীই আবার ফেরিতে পার হচ্ছেন।

পাটুরিয়া লঞ্চ কাউন্টার সুপারভাইজার লিটন মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার  থেকে যাত্রীদের চাপ শুরু হলেও প্রায় ২৮-২৯টি লঞ্চ দিয়ে এ সকল যাত্রী পার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, এ নৌ-পথে ১০টি রো রো, ৭ ইউটিলিটি (মাঝারি) ও ৩টি কে-টাইপ (ছোট) ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়ে গেছে। ঘাটে যে সকল যানবাহন আসছে, তা দ্রুত ফেরি পারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘাট পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন :