‘জীবনে কখনো মহাসড়কে এরকম যানজট দেখিনি’

ঢাকা-আরিচা মহাসড় এবং আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পাশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা। বাস ও লঞ্চে বাড়তি ভাড়া আদায়, মহাসড়কে দফায় দফায় এবং পাটুরিয়া ঘাটে লাগাতার যানজটে আটকা পড়ে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদেরকে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে গাবতলী থেকে বাসে ওঠে বিালে এসে ঘাটে নামছে যাত্রীরা। এরপর পাটুরিয়া ঘাটের যানজট। ফেরি পারাপারের বাসগুলোকে রাতে এসে সকালে এবং সকালের বাসগুলোকে রাতে পারাপার হতে হচ্ছে। এরকম নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

ঢাকা-আরিচা  মহাসড়কে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। একটি গাড়ি আরেকটি গাড়ির পিছনে লেগে লেগে চলছে, যে কারণে সময় লাগছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩/৪ গুণেরও বেশী।

রাজধানীর গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং আরিচা ঘাট পর্যন্ত যেতে স্বাভাবিক সময় লাগতো দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। কিন্তু এখন সময় লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা। ফলে শনিবার সকালে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হয়ে পাটুরিয়া ঘাট থেকে মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত দাঁড়ায়। এছাড়া মহাসড়কের নবীনগর, সাভার হেমায়েতপুরসহ একাধিক স্থানে যানজটে আটকে থাকে আরিচা ও পাটুরিয়াগামী বাস। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার যাত্রী সাধারণ।



এদিকে বাস শ্রমিকরা যাত্রীদেরকে পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। যাত্রীরা তাদের ব্যাগ ও শিশুদেরকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দীর্ঘ এ পথ পায়ে হেটে লঞ্চ-ফেরিতে উঠে নদী পার হচ্ছে।

কুষ্টিয়াগামী একটি বাসের যাত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছেন। গাবতলী থেকে ভোর ৫টায় তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা ১২টায় তার গাড়ি পৌঁছায় মানিকগঞ্জের টেপড়া এলাকায়। পাটুরিয়া পৌঁছতে তার আরো সময় লাগবে কমপক্ষে ৩ ঘন্টা।

তিনি বলেন, জীবনে কখনও এত সময় মহাসড়কে এরকম যানজট দেখিনি।

পাটুরিয়া ঘাটে পূর্বাশা বাসের যাত্রী মিন্টু মিয়া জানান, তার গাড়ি পাটুরিয়া ঘাটে আসতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ ঘন্টা।

মাগুরাগামী বাসযাত্রী আক্কাস আলী জানান, তার গাড়ি গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে ৮ ঘন্টারও বেশী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের  গাফিলতির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মহাসড়কে এবার এরকম যানজট হয়েছে।

এদিকে, পাটুরিয়া ঘাটে রয়েছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড়। লঞ্চের পাশাপাশি তারা ফেরিতে পার হচ্ছে নদী। যাত্রীর তুলনায় লঞ্চ কম হওয়ায় লঞ্চ মালিকরা এত যাত্রী পারাপরে হিমশিম খাচ্ছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে মাত্র ২০ লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে লঞ্চ ব্যবসা করায় অন্য কেউ এ রোডে লঞ্চ ব্যবসা করতে পারে না বলে ভুক্তভুগি অনেকেই জানান।

এদিকে আরিচা-কাজিরহাটের স্বাভাবিক লঞ্চ ভাড়া ৫৫ টাকা। কিন্ত এখন নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে। এছাড়া বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। গাবতলী থেকে পাটুরিয়ার ভাড়া ১২০ টাকা। কিন্ত আজকে বাস শ্রমিকরা  নিচ্ছেন ৪ থেকে ৫শ করে।



মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম সাংবাদিকদেরকে বলেন, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পণ্যবাহী ট্রাক এবং অঅনুমোদিত বাস এই রুটে আসার ফলে গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। এছাড়া সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার ফলসাটিয়ায় এলাকায় দুটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে মহাসড়কে ছিটকে পড়লে সেখানে ১০ মিনিট গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হয়ে যায়। তবে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে আছে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন বলে তিনি জানান ।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ২০টি ফেরি চালু আছে। ফেরি পারাপারে কোনো সমস্যা নেই। তবে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা। 

মন্তব্য লিখুন :