আইনজীবী পলাশ কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন: তদন্ত প্রতিবেদন

পঞ্চগড়ে কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের (৩৬) মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা ছিলো বলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনটি বুধবার (২১ আগষ্ট) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এছাড়া হাইকোর্টে দাখিল করা বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে পঞ্চগড় কারাগারে গ্যাস লাইটারের অবাধ ব্যবহার, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকা, কারাগারের ভেতরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকা, কারাগারে জেল সুপার না থাকা, কারা হাসপাতালে ডিপ্লোমা নার্সের দায়িত্ব পালন ও খুনের মামলার আসামিকে দিয়ে সার্জিক্যাল বিভাগের দায়িত্ব পালন করানোর বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন পলাশ কুমার রায়। পরে সেখান থেকে উঠে তারা জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে এসে মানববন্ধন শুরু করেন। একপর্যায়ে রাস্তা বন্ধ করে হ্যান্ডমাইকের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে ক্ষুব্ধ বক্তব্য দেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে তুলে দেন। ওইদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজিব রানা নামে স্থানীয় এক যুবক তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবী পলাশকে গত ২৬ এপ্রিল বিকালে ঢাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে তিনি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বের হন। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং শরীরের আগুন নেভায়। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মন্তব্য লিখুন :