কক্সবাজারে ফের পাহাড় ধস, আহত ১৫

কক্সবাজারে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে মেরিনড্রাইভ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে, টেকনাফে পাহাড় ধস ও পানির ঢলে ভেসে গিয়ে তিন শিশু নিহত হয়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি সেনাক্যাম্পের পাশে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পাহাড় ধসে মাটি মেরিনড্রাইভ সড়কের উপর চলে এলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। সড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টির কারণে মেরিন ড্রাইভ সড়ক লাতোয়া পাহাড়ে ভয়াবহ ধস হয়। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামেন সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবির সদস্যরা। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। মাটি চাপা পড়াদের সবাই সিএনজি অটোরিক্সার গাড়ির যাত্রী ছিলো এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোরে মুষলধারে বৃষ্টির সময় টেকনাফের পুরান পল্লান পাড়ায় পাহাড় ধসে মুহাম্মদ আলমের মেয়ে আফিয়া (৫) ও একই এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মেহেদী হাসান (১০) নিহত হয়। এ সময় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। আহতদের মধ্যে হালিমা (৫০), ইসমত আরা (২৬) ও কলিমা (১৮) এর অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তারা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) কর্মকর্তা আব্দুল মতিন।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, টেকনাফের পুরান পল্লান পাড়ার মুহাম্মদ আলম ও রবিউল হাসান পাহাড়ের পাদদেশে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। সোমবার দিবাগত রাতে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে বৃষ্টির তোড়ে তাদের বাড়ির উপর অংশে থাকা পাহাড়টি ধসে পড়ে। এতে দুই বাড়ির দুই শিশু মাটিচাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায়। বাকিদের মাটিচাপা থেকে বের করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

এছাড়া মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় পিতার সামনেই পানির স্রোতে হারিয়ে যায় ১০ বছরের শিশু আবু হারেস। পিতা আব্দুল গফুরের হাত ধরে রাস্তায় বের হয় আবু হারেস। সেই সময় পানির স্রোতে রাস্তার পার্শ্বে পড়ে পানির তোড়ে ভেসে যায় শিশুটি। পরে তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মন্তব্য লিখুন :