৬ পার্সেন্ট চাঁদা চেয়েছে শোভন-রাব্বানী: জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ বিষয়ে জাবি উপাচার্য প্রফেসর ফারজানা ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি একটি বানোয়াট গল্প।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য প্রফেসর ফারজানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লেনদেনের বিষয়টি বানোয়াট গল্প। টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের (ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। তারা তাদের মতো করে কাজ করে। তারা কার কাছে কমিশন পায় বা পায় না, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে তারা আমাকে ইঙ্গিত দিলে আমি বলি, তোমরা টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ আমার সঙ্গে করবে না। তোমরা যা চাও, তা তোমাদের মতো করো।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের মূল উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কিছু কমিশন নেবে। তারা এ বিষয়ে আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে এসে তারা হতাশ হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে খোলা চিঠি লিখেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ভিসি ফারজানা বলেন, শোভন-রাব্বানী এখন বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আমার কাছে ৪ থেকে ৬ শতাংশের দাবি নিয়ে এসেছিলেন, সেটি তো একবারও বলেননি। তারা বলেছিলেন, অন্য জায়গায় কাজের পার্সেন্টেজ অনেক বেশি, আমাদের এখানে শোনা যাচ্ছে কম। এত কমে তো পারা যাবে না। আমি বলেছি, আমি কমানো-বাড়ানোর কেউ না। আমার সঙ্গে টাকা নিয়ে কোনো কথা বলবে না। তোমরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছ, সাক্ষাৎ হয়ে গেলে চলে যেতে পার তোমরা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর দেওয়া খোলা চিঠির ব্যাপারে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, তারা মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। আমি তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। এ বিষয়ে আমি তদন্ত করতে অনুরোধ করবো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে ও আচার্য মহোদয়কে। আমি যাবো তাদের কাছে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

ভিসি বলেন, আমি যখন হাসপাতালে ছিলাম তখনও শোভন-রাব্বানী আমাকে ছাড় দেননি। রাত ১১টার পর হাসপাতালে গিয়ে আমার সঙ্গে শিডিউল নিয়ে কথা বলেছেন। আমি যখন শুনলাম আমার কক্ষের বাইরে এবং হাসপাতালের নিচে প্রায় ৩০০ ছেলে এসেছে তখন আমি অনিরাপদ বোধ করেছিলাম। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন আরও দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। কারণ আমার ঠিক উল্টো পাশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ভর্তি ছিলেন।

উপাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ আমাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। তারা দেখেছে জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলন চলছে, এ সুযোগে তাদের অপকর্ম ঢাকতে। এজন্য আমাকে জড়িয়ে টাকা দেয়ার বিষয়টা ট্যাগ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারার সংবাদটি গণমাধ্যমে এলে দেশ‍জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ও আগের বিভিন্ন অভিযোগ টেনে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর নিজেদের ভুল স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেন ছাত্রলীগে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। চিঠিতে রাব্বানী উল্লেখ করেন, জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ঈদুল আজহার আগে শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া উপাচার্যের সন্তানের মাধ্যমে তাদের জাবিতে ডেকে আনা হয়েছিল। গোলাম রাব্বানী সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার ফার্মকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করলেও উপাচার্য তার কথা রাখেননি।

মন্তব্য লিখুন :