পুলিশে নিয়োগে স্বচ্ছতা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করার জন্য পুলিশ সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার পুলিশ সদস্য নিয়োগ নিয়ে কেউ দুর্নীতি ও ঘুষ দেয়ার কথা বলতে পারেনি। আগামীতে এ পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নবীন কর্মকর্তারা আজকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার এটাই আহ্বান, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সাথে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। আমি মনে করি, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সব সময় মনে রাখবে যে তারা জনগণের পুলিশ। কারণ জনগণের মাঝেই আপনাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয়, পরিবার-পরিজন। কাজেই তাদের কল্যাণ, তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা দেয়া এটা আপনাদের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো। তার জন্য দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এবার যে পুলিশ বাহিনীতে পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের একটি লোকও দুর্নীতি বা ঘুষ দেয়ার কথা বলতে পারেননি। এতো স্বচ্ছতার সাথে যে এবার পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ হয়েছে, সে জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাদক এর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। পুলিশ বাহিনীর অত্যান্ত দক্ষতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলেই আজকে আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে পেরেছি। সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এ মাদক অভিযান চলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর সেই সাথে বাংলাদেশের মানুষ যাতে সেবা পাই সে জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ আমরা নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছি।

গত ১০ বছরে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রর পদোক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অবতরণ করে। বেলা ১১টায় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর পর প্রধানমন্ত্রী সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। এরপর প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচজন কর্মকর্তার মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, রাজশাহী সিটি করর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারীসহ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পুলিশ একাডেমিতে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন :