এখনই সময়, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা, অটোমোটিভ শিল্প ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে বিনিয়োগ করতে বিশ্বের বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের, বিশেষ করে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য গতানুগতিক খাতের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস, মোটরগাড়ি শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্ত্রখাতের বাইরেও বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে উন্নত, জ্ঞানসমৃদ্ধ এক সমাজের দিকে এগিয়ে চলেছে। গত বছর আমরা কোরিয়ায় শিল্পখাতে ব্যবহার উপযোগী ১২টি রোবট রপ্তানি করেছি। বাংলাদেশে নির্মিত ৪টি জাহাজ ভারতে এসেছে। সম্প্রতি এখানকার বহুজাতিক কোম্পানি ‘রিলায়েন্স’ বাংলাদেশে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ রেফ্রিজারেটর কিনেছে।

তিনি বলেন, এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশে বর্তমানে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। এসব কিছুই (বাংলাদেশের) এক নীরব রূপান্তরের কথা বলে, যেখানে মানুষ উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিখাতে অভ্যস্ত হতে (সাদরে) বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। তাই আমি বলছি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের, বিশেষ করে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য গতানুগতিক খাতের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস, মোটরগাড়ি শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের জন্য এটি উপযুক্ত সময়।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে নয়াদিল্লির তাজমহল হোটেলের দরবার হলে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে ‘কান্ট্রি স্ট্রাটেজি ডায়ালগ অন বাংলাদেশ’ (সিএসডি) শীর্ষক অংশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও উদার সমাজব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই বাংলাদেশকে ৩ কোটিরও বেশি মধ্য ও উচ্চবিত্ত জনগোষ্ঠীর ‘বাজার’ এবং এক ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে দেখে থাকে। আমার চোখে, আমাদের মূল শক্তি হলো সামাজিক মূল্যবোধ ও জনতার আস্থা। একইসঙ্গে উন্নয়নের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আমাদের নেতৃত্বের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস। আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা, দারিদ্র ও বঞ্চনামুক্ত এক সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। তার স্বপ্নই আমাদের ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নতি দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিতে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, অন্য অনেক দেশের মতোই আমাদেরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু আমরা জানি কীভাবে তাকে সুযোগে পরিণত করতে হয়। এ বছর আমাদের অর্থনীতি ৮.১ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। আমরা দুই সংখ্যার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি। ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮৮ শতাংশ। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা)।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশর এই ব্যাপক উন্নয়নের জন্য সামাজিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রশংসা করেন।

৪০টি দেশের ৮০০ প্রতিনিধি দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আগামীকাল সম্মেলনটি শেষ হবে। সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দেবেন।

মন্তব্য লিখুন :