পাহাড়ি ঢলে দেশের ১০ জেলা প্লাবিত

ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের পানি, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় দেশের ১০ জেলা প্লাবিত হয়েছে। এ বন্যা ৭ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে। রবিবার (২৮ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) পূর্বাভাসে এসব কথা বলা হয়েছে।

বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে, নীলফামারি, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজবাড়ির গোয়ালন্দে পদ্মা বিপৎসীমা পার হতে পারে। মুন্সিগঞ্জের ভাগ্যকুলেও পদ্মা বিপদৎসীমা পার করতে পারে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে। এতে রাজবাড়ি মুন্সিগঞ্জও যুক্ত হবে বন্যাকবলিত জেলার তালিকায়। অপরদিকে বিপৎসীমার উপরে নতুন করে প্রবাহিত নদী দু’টি হচ্ছে, গাইবান্ধায় ঘাগট এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সুরমা, কুশিয়ারা, যদুকাটাও বইয়ে বিপৎসীমার উপরে। ভূগাই ও কংস ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় বিপৎসীমা পার করতে পারে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে। তবে বিপদসীমা পার করার আশঙ্কা নাই। সবমিলে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারতের মেঘালয়, আসাম, দার্জিলিংসহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্য এবং বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে। বৃষ্টির পানিই স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সরকারি সংস্থা ৭ জুলাই পর্যন্ত বন্যা চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের যে প্রবণতা তাতে এটা আরো কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে মানুষের ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।