স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই, হতে পারে লাখ টাকা জরিমানা

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীর বেশিরভাগ হাটবাজার ও উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও বেশিভাগ মানুষই তা মানছেন না।

এছাড়াও বিধিনিষেধ মানতে মানুষকে বাধ্য করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তেমন জোরালো তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে সবকিছুতেই এক ধরনের শিথিলতা দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। এতে করোনার সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

এই বিধিনিষেধকালে বাড়ির বাইরে বের হলেই সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। একইসঙ্গে মেনে চলতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ দফা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ দফা নির্দেশনাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি।

কোনো ব্যক্তি এই সরকারি আইন অমান্য করলে তাকে ২০১৮ সালের ‘সংক্রামক রোগ আইন’ ও ১৮৮০ সালের ‘দণ্ডবিধি আইন’-এর মুখোমুখি হতে হবে। সংক্রামক রোগ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর ১৮৮০ সালের দণ্ডবিধি আইনে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

এরইমধ্যে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ দফা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ দফা নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৫ জনকে ১২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া বিনা কারণে রাস্তায় চলাফেরা করায় রাজধানী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ২৫ জনকে প্রায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনেককেই জরিমানা গুণতে হয়েছে।